০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের দিন যে কারণে কেঁদেছিলেন মিশেল

  • Update Time : ০৭:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
  • / ১৫২ Time View

দিনটি ছিল ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি। ওয়াশিংটনের ক্যাপিটলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান। স্বামী সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে এতে অংশ নেন মিশেল ওবামাও। অনুষ্ঠান শেষে আট বছরের আবাস হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি মিশেল। কেঁদেছিলেন অঝোরে। একটি পডকাস্টকে ওই মুহূর্তের অনুভূতির কথা নিজেই জানান তিনি।

‘যখন দরজাগুলো বন্ধ হলো, আমি টানা ৩০ মিনিট কেঁদেছিলাম। আবেগ সামলাতে পারিনি। কারণ, একসঙ্গে আমরা আটটি বছর এটাকে (হোয়াইট হাউস) আগলে রেখেছিলাম’—প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজে শেষবারের মতো চড়ার মুহূর্তটির কথা এভাবে জানান মিশেল।

গত মঙ্গলবার ‘অডিবল’-এ প্রচারিত ‘দ্য লাইট পডকাস্ট’-এ মিশেলের এমন অভিজ্ঞতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এল। সম্প্রতি সাবেক এই মার্কিন ফার্স্ট লেডির তৃতীয় বই দ্য লাইট উই ক্যারি প্রকাশিত হয়েছে।

মিশেল এই বইতে অনিশ্চিত সময়টুকুতে কীভাবে তাঁর সম্পর্কগুলো রক্ষা করেছেন এবং আত্মবিশ্বাস হারানো ও দুশ্চিন্তা মোকাবিলা করেছেন, তা তুলে ধরেছেন। বইটির প্রচারের অংশ হিসেবে অপরাহ্ উইনফ্রেসহ তারকা সঞ্চালকদের সাক্ষাৎকার দিতে ছয়টি শহর সফর করেছেন মিশেল। পডকাস্টে সেসব সাক্ষাৎকারের কথাও স্থান পেয়েছে।

মিশেল বলেন, ‘আমরা জানি, কার দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমরা ছিলাম। অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন কারণে ওই দিন খুবই আবেগঘন ছিল। আমরা সেই বাড়ি ছাড়ছিলাম, যেখানে আমরা আট বছর ছিলাম। একমাত্র এই বাড়িকে আমার বাচ্চারা ভালোভাবে চিনত।’

সাবেক এই ফার্স্ট লেডি বলেন, ‘শিকাগোর বাড়ির কথাও তাদের মনে ছিল। কিন্তু অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে তারা হোয়াইট হাউসে বেশি সময় ছিল। আমরা কর্মীদের এবং সেসব মানুষ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম, যাঁরা তাঁদের বড় করতে সাহায্য করেছিল।’

মনের অবস্থা ভালো ছিল না জানিয়ে মিশেল বলেন, ‘সেখানে ছিল কান্না ও আবেগঘন পরিবেশ। এরপর যখন অনুষ্ঠান মঞ্চে বসলাম এবং দেখলাম, আমরা যা ধারণ করি সেটির বিপরীত কিছুর প্রদর্শনী চলছে—সেখানে কোনো বৈচিত্র্য ছিল না, সেই মঞ্চে কোনো রং ছিল না, আমেরিকার বৃহত্তর অনুভূতির কোনো প্রতিফলন ছিল না।’

স্বামীর উত্তরসূরির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানের জনসমাগম নিয়েও বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি মিশেল। ওই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। এ নিয়ে মিশেল বলেন, তাঁরা যখন উড়োজাহাজে ক্যাপিটলের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দেখেছেন সেখানে এত বেশি মানুষ ছিল না। সাবেক ফার্স্ট লেডির এমন বক্তব্যে দর্শকদের অনেককে হাসতে শোনা যায়।

পডকাস্টটি নিজের টুইটারেও পোস্ট করেছেন মিশেল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি অন্যদেরও নিজেদের উজ্জ্বল দিকগুলো প্রকাশে উৎসাহিত করবে।

Tag :

Share This Post

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের দিন যে কারণে কেঁদেছিলেন মিশেল

Update Time : ০৭:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

দিনটি ছিল ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি। ওয়াশিংটনের ক্যাপিটলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান। স্বামী সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে এতে অংশ নেন মিশেল ওবামাও। অনুষ্ঠান শেষে আট বছরের আবাস হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি মিশেল। কেঁদেছিলেন অঝোরে। একটি পডকাস্টকে ওই মুহূর্তের অনুভূতির কথা নিজেই জানান তিনি।

‘যখন দরজাগুলো বন্ধ হলো, আমি টানা ৩০ মিনিট কেঁদেছিলাম। আবেগ সামলাতে পারিনি। কারণ, একসঙ্গে আমরা আটটি বছর এটাকে (হোয়াইট হাউস) আগলে রেখেছিলাম’—প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজে শেষবারের মতো চড়ার মুহূর্তটির কথা এভাবে জানান মিশেল।

গত মঙ্গলবার ‘অডিবল’-এ প্রচারিত ‘দ্য লাইট পডকাস্ট’-এ মিশেলের এমন অভিজ্ঞতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এল। সম্প্রতি সাবেক এই মার্কিন ফার্স্ট লেডির তৃতীয় বই দ্য লাইট উই ক্যারি প্রকাশিত হয়েছে।

মিশেল এই বইতে অনিশ্চিত সময়টুকুতে কীভাবে তাঁর সম্পর্কগুলো রক্ষা করেছেন এবং আত্মবিশ্বাস হারানো ও দুশ্চিন্তা মোকাবিলা করেছেন, তা তুলে ধরেছেন। বইটির প্রচারের অংশ হিসেবে অপরাহ্ উইনফ্রেসহ তারকা সঞ্চালকদের সাক্ষাৎকার দিতে ছয়টি শহর সফর করেছেন মিশেল। পডকাস্টে সেসব সাক্ষাৎকারের কথাও স্থান পেয়েছে।

মিশেল বলেন, ‘আমরা জানি, কার দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমরা ছিলাম। অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন কারণে ওই দিন খুবই আবেগঘন ছিল। আমরা সেই বাড়ি ছাড়ছিলাম, যেখানে আমরা আট বছর ছিলাম। একমাত্র এই বাড়িকে আমার বাচ্চারা ভালোভাবে চিনত।’

সাবেক এই ফার্স্ট লেডি বলেন, ‘শিকাগোর বাড়ির কথাও তাদের মনে ছিল। কিন্তু অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে তারা হোয়াইট হাউসে বেশি সময় ছিল। আমরা কর্মীদের এবং সেসব মানুষ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম, যাঁরা তাঁদের বড় করতে সাহায্য করেছিল।’

মনের অবস্থা ভালো ছিল না জানিয়ে মিশেল বলেন, ‘সেখানে ছিল কান্না ও আবেগঘন পরিবেশ। এরপর যখন অনুষ্ঠান মঞ্চে বসলাম এবং দেখলাম, আমরা যা ধারণ করি সেটির বিপরীত কিছুর প্রদর্শনী চলছে—সেখানে কোনো বৈচিত্র্য ছিল না, সেই মঞ্চে কোনো রং ছিল না, আমেরিকার বৃহত্তর অনুভূতির কোনো প্রতিফলন ছিল না।’

স্বামীর উত্তরসূরির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানের জনসমাগম নিয়েও বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি মিশেল। ওই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। এ নিয়ে মিশেল বলেন, তাঁরা যখন উড়োজাহাজে ক্যাপিটলের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দেখেছেন সেখানে এত বেশি মানুষ ছিল না। সাবেক ফার্স্ট লেডির এমন বক্তব্যে দর্শকদের অনেককে হাসতে শোনা যায়।

পডকাস্টটি নিজের টুইটারেও পোস্ট করেছেন মিশেল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি অন্যদেরও নিজেদের উজ্জ্বল দিকগুলো প্রকাশে উৎসাহিত করবে।