০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়ায় অবস্থানরত পাবনার এক প্রবাসীকে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায়

Nurunnobi
  • Update Time : ০৪:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
  • / ৪৯৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লিবিয়ায় অবস্থানরত পাবনার এক প্রবাসীকে জিম্মি করে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে বাংলাদেশে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপন আদায়ের অভিযোগে অপহরণ চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে এতথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আকবর আলী মুনসী। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিনের দক্ষিন পশ্চিম দিঘলদি এলাকার মৃত পন্ডিত আলী বেপারীর ছেলে হাবিবুর রহমান সুমন (৩০) এবং একই এলাকার দেলয়ার হোসেন গাজীর ছেলে রবিউল আওয়াল রবি (২৮)।

পুলিশ সুপার বলেন, মো. মাসুদ (৪০) নামে পাবনার এক ব্যক্তি গত ৪ বছর যাবত লিবিয়ার সিটি খলিফা নামক স্থানে দরজির দোকান নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ১৪ মে সকাল ৮টায় অজ্ঞাতনামা ইমো নম্বর হতে ভিকটিম মো. মাসুদের স্ত্রীর ইমো নম্বরে ফোন করে বলে তার স্বামীকে অপহর করা হয়েছে জীবিত ফেরত চাইলে তাদের ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। টাকা না দিলে মাসুদকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে অপহরনকারীরা বাংলাদেশী বিকাশ নম্বর দেয় এবং টাকা পাঠাতে বলে। মাসুদের অসহায় বাবা ধার-দেনা করে অপহরনকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বরে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করে। উক্ত টাকা পাওয়ার পর ২০ মে অপহরণকারীরা ইমো নম্বর হতে পুনরায় ফোন করে আরও ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে এবং মাসুদকে মারধরের ভিডিও প্রেরণ করে।

তিনি আরও জানান, এক পর্যায়ে মাসুদের মা মলিনা খাতুন পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে ডিবি টিম তথ্য প্রযু্ক্তির সহায়তায় ও অনুসন্ধানী নানান কৌশল ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে লিবিয়ায় থাকা অপহরণকারীদের পুর্বপরিচয় আছে। অপহরণকারীরা অপহৃতদের পরিবারের পাঠানা টাকা দেশে থাকা সুমন ও রবির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতো। লিবিয়ায় থাকা অপহরণকারীদেরও পরিচয় পাওয়া গেছে, তবে এই মুহুর্তে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করছি না। আমরা অপহৃতকে উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

Tag :

Share This Post

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লিবিয়ায় অবস্থানরত পাবনার এক প্রবাসীকে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায়

Update Time : ০৪:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লিবিয়ায় অবস্থানরত পাবনার এক প্রবাসীকে জিম্মি করে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে বাংলাদেশে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপন আদায়ের অভিযোগে অপহরণ চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে এতথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আকবর আলী মুনসী। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিনের দক্ষিন পশ্চিম দিঘলদি এলাকার মৃত পন্ডিত আলী বেপারীর ছেলে হাবিবুর রহমান সুমন (৩০) এবং একই এলাকার দেলয়ার হোসেন গাজীর ছেলে রবিউল আওয়াল রবি (২৮)।

পুলিশ সুপার বলেন, মো. মাসুদ (৪০) নামে পাবনার এক ব্যক্তি গত ৪ বছর যাবত লিবিয়ার সিটি খলিফা নামক স্থানে দরজির দোকান নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ১৪ মে সকাল ৮টায় অজ্ঞাতনামা ইমো নম্বর হতে ভিকটিম মো. মাসুদের স্ত্রীর ইমো নম্বরে ফোন করে বলে তার স্বামীকে অপহর করা হয়েছে জীবিত ফেরত চাইলে তাদের ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। টাকা না দিলে মাসুদকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে অপহরনকারীরা বাংলাদেশী বিকাশ নম্বর দেয় এবং টাকা পাঠাতে বলে। মাসুদের অসহায় বাবা ধার-দেনা করে অপহরনকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বরে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করে। উক্ত টাকা পাওয়ার পর ২০ মে অপহরণকারীরা ইমো নম্বর হতে পুনরায় ফোন করে আরও ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে এবং মাসুদকে মারধরের ভিডিও প্রেরণ করে।

তিনি আরও জানান, এক পর্যায়ে মাসুদের মা মলিনা খাতুন পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে ডিবি টিম তথ্য প্রযু্ক্তির সহায়তায় ও অনুসন্ধানী নানান কৌশল ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে লিবিয়ায় থাকা অপহরণকারীদের পুর্বপরিচয় আছে। অপহরণকারীরা অপহৃতদের পরিবারের পাঠানা টাকা দেশে থাকা সুমন ও রবির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতো। লিবিয়ায় থাকা অপহরণকারীদেরও পরিচয় পাওয়া গেছে, তবে এই মুহুর্তে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করছি না। আমরা অপহৃতকে উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।