০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনা-৫ আসনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

Nurunnobi
  • Update Time : ০৯:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৫১ Time View

‘চব্বিশের বিপ্লব’-এর চেতনায় আধুনিক ও বৈষম্যহীন পাবনা গড়ার অঙ্গীকার
পাবনা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার পাবনা শহরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন।

ইশতেহারে তিনি ‘চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব’-এর চেতনাকে ধারণ করে একটি আধুনিক, উন্নত, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী পাবনা গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি পাবনায় উচ্চশিক্ষার প্রসার, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি পাবনা সদর এলাকার যানজট নিরসন, গ্রামীণ সড়কগুলোর টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের দাবি ‘পাবনা-ঢাকা’ সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালুর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ করেন।

কৃষি ও শ্রমিক কল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, পাবনা সদরকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জনপদে পরিণত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ইশতেহারে নারী, শিশু ও যুব উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আইটি পার্ক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, ইছামতী নদী খনন ও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে শহরকে পর্যটনবান্ধব আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন,
“আমরা চব্বিশের বিপ্লবের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আমি নির্বাচিত হলে পাবনা সদরকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করবো, ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আগামী নির্বাচনে সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

Tag :

Share This Post

About Author Information

পাবনা-৫ আসনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

Update Time : ০৯:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘চব্বিশের বিপ্লব’-এর চেতনায় আধুনিক ও বৈষম্যহীন পাবনা গড়ার অঙ্গীকার
পাবনা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার পাবনা শহরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন।

ইশতেহারে তিনি ‘চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব’-এর চেতনাকে ধারণ করে একটি আধুনিক, উন্নত, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী পাবনা গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি পাবনায় উচ্চশিক্ষার প্রসার, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি পাবনা সদর এলাকার যানজট নিরসন, গ্রামীণ সড়কগুলোর টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের দাবি ‘পাবনা-ঢাকা’ সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালুর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ করেন।

কৃষি ও শ্রমিক কল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, পাবনা সদরকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জনপদে পরিণত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ইশতেহারে নারী, শিশু ও যুব উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আইটি পার্ক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, ইছামতী নদী খনন ও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে শহরকে পর্যটনবান্ধব আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন,
“আমরা চব্বিশের বিপ্লবের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আমি নির্বাচিত হলে পাবনা সদরকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করবো, ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আগামী নির্বাচনে সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।