পাবনায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গণশৌচাগার, চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী
- Update Time : ০৭:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪৪ Time View
স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন কার্যত গণশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসাসেবার জন্য নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ প্রস্রাব করছেন, পাশাপাশি বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে অবাধে।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পুরো পরিবেশ। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে হাসপাতালটির সার্বিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয়রা।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কাশিনাথপুর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। দীর্ঘদিন আগে নির্মিত পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। তবে পুরোনো ভবনটি অপসারণ বা সুরক্ষিত না করায় শুরু হয় অব্যবস্থাপনা।

এই সুযোগে স্থানীয় লোকজন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রাঙ্গণকে প্রস্রাব ও ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। বাজারে আসা ব্যবসায়ীরাও নির্বিঘ্নে এখানে আবর্জনা ফেলছেন। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে।
কাশিনাথপুর ছাড়াও আহাম্মাদপুর ও জাতসাখিনী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের জন্য এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাবে প্রতিষ্ঠানটি এখন তার মূল উদ্দেশ্য হারাতে বসেছে।
সচেতন মহল অবিলম্বে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সুষ্ঠু ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, হরিজন সম্প্রদায়কে মানবিকভাবে অন্যত্র পুনর্বাসন, কেন্দ্রটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেডিকেল অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাঁথীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুল বাতেন বলেন, “আমাদের প্রথম ও জরুরি পদক্ষেপ হচ্ছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বাউন্ডারি উঁচু করা। সুইপাররা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবস্থান করছে। আগে অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা যায়নি। আপাতত বাউন্ডারি উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং পুনরায় চিকিৎসাসেবা ফিরে আসবে—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।










