০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলে গেলেন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত পাবনার পাখিবন্ধু চিরকুমার আকাশ কলি দাস

Nurunnobi
  • Update Time : ১০:৪৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫৫৬ Time View

Oplus_16908288

বেড়া প্রতিনিধিঃ
আর কখনও পাখিদের কলতানে ঘুম ভাঙবে না পাবনার পাখিপ্রেমী স্কুল শিক্ষক, রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত পরিবেশবাদী আকাশ কলি দাসের (৭৯)। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাঁর মৃত্যুতে এক অনন্য পাখিপ্রেমিকের জীবনের ইতি ঘটল।

কৈতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন উদ্দিন পিপল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আকাশ কলি দাস বেড়া উপজেলার কৈতলা গ্রামের কাগেশ্বর নদীর পাড়ে অবস্থিত পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর বাবা ছিলেন নগরবাড়ির জমিদার বাড়ির নায়েব। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে সংসারের হাল ধরেন আকাশ কলি দাস। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। দেশ স্বাধীনের আগে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ভারতে পাড়ি জমালেও আকাশ কলি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছোট বোন চিরকুমারী ঝর্ণা রানী দাসকে নিয়ে পৈত্রিক ভিটা ছাড়েননি।

পেশাগত জীবনে আকাশ কলি দাস একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বেড়া উপজেলার মাছখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নব্বইয়ের দশকে অবসর নেন।

পাখিদের জন্য জীবন উৎসর্গ

চিরকুমার আকাশ কলি দাস তাঁর ছয় বিঘা বসতভিটাকে পরিণত করেছিলেন পাখিদের অভয়াশ্রমে। সেখানে তিনি পাখিদের জন্য আম, কাঁঠাল, দেবদারু, ভারতীয় পার্সিমনিসহ নানান প্রজাতির গাছ লাগান। এলাকার মানুষদের মাঝে ‘পাখিবন্ধু’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি এবং তাঁর ছোট বোন ঝর্ণা রানী দাস।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

পাখিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে এনে দেয় রাষ্ট্রীয় সম্মান। ২০২৪ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আকাশ কলি দাসকে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজার্ভেশন-২০২৪’ প্রদান করেন।
তিনি ‘ক’ ক্যাটাগরিতে — বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে এ পুরস্কার পান। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি নগদ অর্থ, ৫০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র লাভ করেন।

এলাকার গর্ব, পরিবেশের সাথী

আকাশ কলি দাস শুধুই এক শিক্ষক নন; তিনি ছিলেন প্রকৃতি ও পাখিদের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী যেমন এক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিকে হারালো, তেমনি প্রকৃতিও হারালো তার এক নিরব লালনকারীকে।

Tag :

Share This Post

About Author Information

চলে গেলেন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত পাবনার পাখিবন্ধু চিরকুমার আকাশ কলি দাস

Update Time : ১০:৪৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

বেড়া প্রতিনিধিঃ
আর কখনও পাখিদের কলতানে ঘুম ভাঙবে না পাবনার পাখিপ্রেমী স্কুল শিক্ষক, রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত পরিবেশবাদী আকাশ কলি দাসের (৭৯)। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাঁর মৃত্যুতে এক অনন্য পাখিপ্রেমিকের জীবনের ইতি ঘটল।

কৈতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন উদ্দিন পিপল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আকাশ কলি দাস বেড়া উপজেলার কৈতলা গ্রামের কাগেশ্বর নদীর পাড়ে অবস্থিত পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর বাবা ছিলেন নগরবাড়ির জমিদার বাড়ির নায়েব। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে সংসারের হাল ধরেন আকাশ কলি দাস। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। দেশ স্বাধীনের আগে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ভারতে পাড়ি জমালেও আকাশ কলি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছোট বোন চিরকুমারী ঝর্ণা রানী দাসকে নিয়ে পৈত্রিক ভিটা ছাড়েননি।

পেশাগত জীবনে আকাশ কলি দাস একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বেড়া উপজেলার মাছখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নব্বইয়ের দশকে অবসর নেন।

পাখিদের জন্য জীবন উৎসর্গ

চিরকুমার আকাশ কলি দাস তাঁর ছয় বিঘা বসতভিটাকে পরিণত করেছিলেন পাখিদের অভয়াশ্রমে। সেখানে তিনি পাখিদের জন্য আম, কাঁঠাল, দেবদারু, ভারতীয় পার্সিমনিসহ নানান প্রজাতির গাছ লাগান। এলাকার মানুষদের মাঝে ‘পাখিবন্ধু’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি এবং তাঁর ছোট বোন ঝর্ণা রানী দাস।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

পাখিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে এনে দেয় রাষ্ট্রীয় সম্মান। ২০২৪ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আকাশ কলি দাসকে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজার্ভেশন-২০২৪’ প্রদান করেন।
তিনি ‘ক’ ক্যাটাগরিতে — বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে এ পুরস্কার পান। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি নগদ অর্থ, ৫০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র লাভ করেন।

এলাকার গর্ব, পরিবেশের সাথী

আকাশ কলি দাস শুধুই এক শিক্ষক নন; তিনি ছিলেন প্রকৃতি ও পাখিদের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী যেমন এক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিকে হারালো, তেমনি প্রকৃতিও হারালো তার এক নিরব লালনকারীকে।