ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের ৬ষ্ঠ চালান
- Update Time : ১১:২১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩
- / ৭৪ Time View
নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশের সর্ব বৃহৎ পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের (ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল) ষষ্ঠ চালান রূপপুরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৩ নভেম্বর ) সকাল সাড়ে ৮ সময় ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে ।
পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর ভোরে রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
পুলিশ সুপার জানান, ইউরেনিয়াম আসাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল। এ ছাড়া ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে প্রকল্প এলাকার রূপপুর পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ইউরেনিয়ামের চালান রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জ্বালানির প্রথম চালান। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্বালানি নেওয়া হয় প্রকল্প এলাকায়। ৫ অক্টোবর বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে পারমাণবিক ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
প্রথম চালানের এক সপ্তাহ পর গত ৬ অক্টোবর সকাল সোয়া ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান রাজধানী ঢাকা থেকে সফলভাবে ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছায়। ১৩ অক্টোবর তৃতীয় চালান , ২০ অক্টোবর চতুর্থ চালান এবং ২৭ অক্টোবর পঞ্চম চালান রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বৃহৎ প্রকল্প। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের ব্যয় ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। আর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে পারে। দুটি ইউনিট চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথম ইউনিটের ভৌত এবং অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়ে গেছে ৯০ শতাংশের বেশি। আর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।










