০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ: নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

Nurunnobi
  • Update Time : ০৫:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩৭১ Time View

oplus_1024

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যমেই একটি আদর্শ ও টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে—এমন মন্তব্য করেছেন দারুল আমান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

তিনি শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে দারুল আমান ট্রাস্ট পরিচালিত পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক অভিভাবক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও বেশি সচেতন ও সম্পৃক্ত হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—এই তিনের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যদি সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির জন্য একটি বড় সম্পদে পরিণত হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।
মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফ ও সহকারী শিক্ষক ফয়সাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা কোনো বিচ্ছিন্ন ধারায় নেই। সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক কে. এম. হেসাব উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হলে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।
দারুল আমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি নেছার আহমেদ নান্নু বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক দৃঢ়তা গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে নৈতিক অবক্ষয়ের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদ বলেন, পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে আরও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারুল আমান ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাত, কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষামূলক পরিবেশনায় সাজানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অভিভাবক ও দর্শকদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

Tag :

Share This Post

About Author Information

পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ: নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

Update Time : ০৫:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যমেই একটি আদর্শ ও টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে—এমন মন্তব্য করেছেন দারুল আমান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

তিনি শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে দারুল আমান ট্রাস্ট পরিচালিত পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক অভিভাবক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও বেশি সচেতন ও সম্পৃক্ত হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—এই তিনের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যদি সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির জন্য একটি বড় সম্পদে পরিণত হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।
মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফ ও সহকারী শিক্ষক ফয়সাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা কোনো বিচ্ছিন্ন ধারায় নেই। সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক কে. এম. হেসাব উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হলে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।
দারুল আমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি নেছার আহমেদ নান্নু বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক দৃঢ়তা গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে নৈতিক অবক্ষয়ের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদ বলেন, পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে আরও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারুল আমান ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাত, কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষামূলক পরিবেশনায় সাজানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অভিভাবক ও দর্শকদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।