০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবন্ত কিংবদন্তী জাতির আদর্শ শিক্ষক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ পাবনার ব্ল্যাক ডায়মন্ড মাওলানা আব্দুর রহীম

Nurunnobi
  • Update Time : ১০:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৪৩২ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:
মাওলানা আব্দুর রহীম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ ইং পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের অন্তর্গত মধুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম হারুন-আর-রশিদ প্রামানিক এবং মাতার নাম মরহুমা মুজিরন নেছা।

মাওলানা আব্দুর রহীম এর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু ১৩ নং মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলেও ৪র্থ শ্রেনির পরে পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২য় বিভাগে দাখিল এবং ১৯৬৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২য় বিভাগে আলিম পাশ করেন। এরপর পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকেই ১৯৭২ সালে ১ম বিভাগে ফাজিল এবং ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগে কামিল পাস করেন। মাদ্রাসা শিক্ষা শেষ করে ১৯৭৪ সালে আতাইকুলা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৮১ সালে ঈশ্বরদী কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। সবশেষ তিনি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ পাস করার মাধ্যমে বর্ণাঢ্য একাডেমিক শিক্ষা জীবন শেষ করেন।

মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৯৬ সালে খয়েরসুতি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। সবশেষে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহীম বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেক সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছেন। খুবই তরুণ বয়সে ১৯৬৫ সালে মধুপুর পূর্বপাড়া জনকল্যাণ সমিতি নামক সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি সে সময় উক্ত সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত সমিতির উপদেষ্টা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা। ১৯৮৫ সালে মধুপুর মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালে মাদ্রাসার সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং অল্প কিছুদিন পরেই মাদ্রাসার সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। একজন সফল শিক্ষা সংগঠক হিসেবে প্রায় ২০ বছর সফলতার সাথে মধুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত মাদ্রাসার গভর্নিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের আর্থিক উন্নয়নের জন্য “গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প” নামে নিজ গ্রামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যদিও পরবর্তীতে এলাকায় অবস্থান না করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিলুপ্তি ঘটে।
১৯৮৯ সালে নিজ জন্মস্থান মধুপুর বাজারে পারিবারিকভাবে তার মা, ৬ ভাই এবং ৪ বোন মিলে ১০ শতাংশ জমি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে মধুপুর বাজার জামে মসজিদ স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি পাবনা শহরের পূর্ব শালগাড়ীয়া মহল্লাবাসীর সহযোগিতায় ২০১১ সালে “মসজিদুল ফাতাহ কমপ্লেক্স” নামে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। ৫ তলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়ে মসজিদটির ১তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কমপ্লেক্স হিসেবে মসজিদের নিচ তলায় ফাঁকা রেখে ইমাম সাহেব ও মুয়াজ্জিন এর জন্য আবাসিক ব্যবস্থা, বাথরুম, ওজুখানা, মসজিদের জন্য অফিস , লাইব্রেরি, দাতব্য চিকিৎসালয়, মাইয়াতের জানাজা নামাজের ব্যবস্থা এবং ছোট আকারের গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মহল্লার সার্বিক বিষয়াদি পরিচালনা জন্য তিনি মসজিদ কমিটি, সমাজ পরিচালনা কমিটি এবং যুব কমিটি এই তিনটি কমিটি গঠন করেছেন। ধর্মীয়, সামাজিক ও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই কমিটি গুলো কাজ করে থাকে। মসজিদ কমিটি মুলতঃ ধর্মীয়, সামাজিকসহ মহল্লার সকল কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় করে থাকেন। এটি পরিচালনার জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে যার আলোকে সবকিছু পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণমূলক, বিরল সিস্টেমেটিক এই প্রতিষ্ঠানটিরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
২০২১ সালে নিজ গ্রামে “মধুপুর -মাদারগাছী আল হেরা কমপ্লেক্স” নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান উক্ত গ্রামের কৃতি সন্তান মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক সাহেবের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে- মধুপুর -মাদারগাছী কবরস্থান, একটি জামে মসজিদ ও একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা। ভবিষ্যতে এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে একটি কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও সুযোগ হলে আরও নতুন নতুন প্রকল্প এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে চালু করা হবে বলে জানা যায়। বর্তমানে যে সকল প্রতিষ্ঠান এই কমপ্লেক্সের অধীনে রয়েছে, সে সকল প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম দায়িত্ব পালন করছেন।
মধুপুর গ্রামের সব থেকে পুরাতন জামে মসজিদ গ্রামের মাঝামাঝিতে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এলাকার মধ্যে সবথেকে পুরাতন এবং বড় আকারের মসজিদ। যে মসজিদের পাশে স্থাপিত হয়েছে মধুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসা। মাওলানা আব্দুর রহীম এ মসজিদেরও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি এক সময় পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। তিনি আতাইকুলা কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
লক্ষ্য করা যায় মাওলানা আব্দুর রহীম ছেলেবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে নিবেদিত একজন ব্যাক্তি। মধুপুর বাজারে তার নিজেস্ব কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও তার আত্মীয় স্বজনসহ গ্রামের অন্যান্য ব্যাক্তিরা সেখানে নিজেস্ব জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। মাওলানা আব্দুর রহীম এই বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে সমন্বয় করে সেখানে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
পাবনা জেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম দারুল আমান ট্রাস্ট। মাওলানা আব্দুর রহীম পাবনা দারুল আমান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পাবনা জেলার আধুনিক শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আধুনিক পাবনার রুপকার পাবনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহানের মৃত্যুর পর “স্মৃতির পাতায় মাওলানা আব্দুস সোবহান ” দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রোজ শনিবার প্রিন্ট সংস্করণ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। ওই স্মৃতির পাতায় লেখা “একটি ভুল তথ্যের অপনোদন ” সাব হেডে লেখা থেকে জানা যায় ১৯৯১ সালর ১৮ ডিসেম্বর দারুল আমান ট্রাস্টের যে দলিল সম্পাদিত হয়, সেই দলিল অনুযায়ী দেখা যায় দারুল আমান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুর রহীম।

স্বচ্ছ রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত মাওলানা আব্দুর রহীম ছাত্র জীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী ও সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ইসলামী ছাত্র শিবির বৃহত্তর পাবনা জেলা (পাবনা – সিরাজগঞ্জ) শাখার সভাপতি ছিলেন। তার আগে তিনি ছাত্র শিবিরের পাবনা সদর থানা ও পাবনা সদর মহকুমার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর তাকে আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের জনশক্তি করা হয়। শিবপুর ত্বাহা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার করনিক মরহুম আবদুস ছাত্তার তখন আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। মাওলানা আব্দুর রহীমকে প্রথমে ঐ গ্রামের ইউনিট জামায়াতের সভাপতি করা হয়, পরবর্তীতে তাকে আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি করা হয় এবং একই সাথে সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের কাজ দেখা শুনার দায়িত্ব পান। মাওলানা আব্দুর রহীম শাঁখারীপাড়ার নোয়াব আলী মেম্বার কে সাথে নিয়ে ২টি ইউনিয়নের কাজ গুছিয়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাবনা সদর উপজেলা সেক্রেটারি, এরপর পাবনা সদর উপজেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তাকে (পাবনা-৫) সদর আসনের নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচনে মাওলানা আব্দুস সোবহান (পাবনা-৫) সদর আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক উপনির্বাচনে মাওলানা আব্দুর রহীমকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আমীর হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ২৬ বছর সফলতার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আমীরের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মাওলানা আব্দুর রহীম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য এবং বগুড়া অঞ্চলের অন্যতম টীম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একজন সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম জীবনে অনেকবার কারাবরণের দুঃসহ অভিজ্ঞতা ও করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
১৯৮৭ সালে ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরি মসজিদে হিন্দু উগ্রবাদীরা ভাঙচুর করে। তাদের দাবি মসজিদের ঐ জায়গায় পূর্বে সেখানে রাম মন্দির ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট বাবরের শাসন আমলে ওই রাম মন্দিরের জায়গায় মসজিদ স্থাপন করা হয়। উগ্র হিন্দুদের ওই অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে সারা মুসলিম বিশ্বে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বাংলাদেশেও এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে পাবনাতেও তৌহিদি জনতা প্রতিবাদ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে অনেকের নামে মামলা হয়। পরবর্তীতে সেই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত ৪ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। মাওলানা আব্দুর রহীম ঐ চারজনের মধ্যে একজন ছিলেন। ঐটা ছিলো তার প্রথম কারাবরণ। ১৯৯৭ সালে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে নবীন বরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের কারণে পুলিশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তৎকালীন পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহীমসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে, যেটা ছিল তার জীবনে ২য় বারের জন্য কারাবরণ। এরপর মাওলানা আব্দুর রহীম ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ৩য় বারের মত গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ ২ বছর ২ মাস কারাভোগ করে ২০১৭ সালের ৯ মার্চ জামিনে মুক্তি লাভ করেন। ২৬ মাসের জেল হাজতকালে তার রাজনৈতিক অনেক সহযোদ্ধাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছিলো তেমনই অনেক স্বজনকেও হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি কষ্টকর এবং দুঃখজনক হৃদয় বিদারক ঘটনা ছিলো ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার গর্ভধারণী মায়ের ইন্তেকাল। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আযহার দিন মরহুমার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার দূর্ভাগ্য মা জননীর জানাজায় অংশ গ্রহণের সুযোগ ছিলো না। সেদিন জেলগেট থেকে মৃত মায়ের মুখখানা দেখেই বিদায় জানাতে হয়েছিল । এতো কিছুর জন্য মাতম করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না।

সাংবাদিক হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীমের আলাদা সুনাম ও পরিচিতি রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই মাওলানা আব্দুর রহীম সাংবাদিক হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন। “দৈনিক আজাদ” পত্রিকার তিনি পাবনার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। “দৈনিক সংগ্রাম” পত্রিকার তিনি রিপোর্টার ছিলেন, পরবর্তীতে সাব এডিটর হিসেবে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যদিও বিশেষ কারণে তিনি সাব এডিটর পদে যোগ দিতে পারেন নাই। “সাপ্তাহিক জাহানে নও” এর তিনি সাংবাদিক এবং “সাপ্তাহিক সোনার বাংলা” পত্রিকাতে তিনি পাবনা সংবাদদাতা ছিলেন। কর্ম দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার কারণে Eastern News Agency (এনা)- তে সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পেয়েছিলেন যদিও তিনি সাংবাদিকতাকে প্রধান পেশা হিসেবে নিতে পারেন নাই। বর্তমানে পাবনা থেকে প্রকাশিত “দৈনিক জীবনকথা” পত্রিকার তিনি প্রকাশক এবং কিছুদিন তিনি এ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেছেন। এছাড়াও মাঝেমধ্যেই তিনি বিভিন্ন পত্রিকাতে ফিচার লিখে থাকেন।

জাতির এ মহান শিক্ষক ব্যাক্তিগতভাবে খুবই সহজ ও সাদাসিধা জীবন যাপন করেন। অনেক বড় পদে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করলেও অর্থলোভ, দূর্নিতি এবং কোনো অহংকার তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছেই একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম পাবনার সকলের কাছেই সমাদৃত এবং অনুকরণীয়।

Tag :

Share This Post

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জীবন্ত কিংবদন্তী জাতির আদর্শ শিক্ষক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ পাবনার ব্ল্যাক ডায়মন্ড মাওলানা আব্দুর রহীম

Update Time : ১০:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি:
মাওলানা আব্দুর রহীম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ ইং পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের অন্তর্গত মধুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম হারুন-আর-রশিদ প্রামানিক এবং মাতার নাম মরহুমা মুজিরন নেছা।

মাওলানা আব্দুর রহীম এর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু ১৩ নং মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলেও ৪র্থ শ্রেনির পরে পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২য় বিভাগে দাখিল এবং ১৯৬৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২য় বিভাগে আলিম পাশ করেন। এরপর পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসা থেকেই ১৯৭২ সালে ১ম বিভাগে ফাজিল এবং ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগে কামিল পাস করেন। মাদ্রাসা শিক্ষা শেষ করে ১৯৭৪ সালে আতাইকুলা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৮১ সালে ঈশ্বরদী কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। সবশেষ তিনি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ পাস করার মাধ্যমে বর্ণাঢ্য একাডেমিক শিক্ষা জীবন শেষ করেন।

মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৯৬ সালে খয়েরসুতি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। সবশেষে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহীম বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেক সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছেন। খুবই তরুণ বয়সে ১৯৬৫ সালে মধুপুর পূর্বপাড়া জনকল্যাণ সমিতি নামক সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি সে সময় উক্ত সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত সমিতির উপদেষ্টা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা। ১৯৮৫ সালে মধুপুর মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালে মাদ্রাসার সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং অল্প কিছুদিন পরেই মাদ্রাসার সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। একজন সফল শিক্ষা সংগঠক হিসেবে প্রায় ২০ বছর সফলতার সাথে মধুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত মাদ্রাসার গভর্নিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের আর্থিক উন্নয়নের জন্য “গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প” নামে নিজ গ্রামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যদিও পরবর্তীতে এলাকায় অবস্থান না করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিলুপ্তি ঘটে।
১৯৮৯ সালে নিজ জন্মস্থান মধুপুর বাজারে পারিবারিকভাবে তার মা, ৬ ভাই এবং ৪ বোন মিলে ১০ শতাংশ জমি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে মধুপুর বাজার জামে মসজিদ স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি পাবনা শহরের পূর্ব শালগাড়ীয়া মহল্লাবাসীর সহযোগিতায় ২০১১ সালে “মসজিদুল ফাতাহ কমপ্লেক্স” নামে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। ৫ তলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়ে মসজিদটির ১তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কমপ্লেক্স হিসেবে মসজিদের নিচ তলায় ফাঁকা রেখে ইমাম সাহেব ও মুয়াজ্জিন এর জন্য আবাসিক ব্যবস্থা, বাথরুম, ওজুখানা, মসজিদের জন্য অফিস , লাইব্রেরি, দাতব্য চিকিৎসালয়, মাইয়াতের জানাজা নামাজের ব্যবস্থা এবং ছোট আকারের গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মহল্লার সার্বিক বিষয়াদি পরিচালনা জন্য তিনি মসজিদ কমিটি, সমাজ পরিচালনা কমিটি এবং যুব কমিটি এই তিনটি কমিটি গঠন করেছেন। ধর্মীয়, সামাজিক ও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই কমিটি গুলো কাজ করে থাকে। মসজিদ কমিটি মুলতঃ ধর্মীয়, সামাজিকসহ মহল্লার সকল কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় করে থাকেন। এটি পরিচালনার জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে যার আলোকে সবকিছু পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণমূলক, বিরল সিস্টেমেটিক এই প্রতিষ্ঠানটিরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
২০২১ সালে নিজ গ্রামে “মধুপুর -মাদারগাছী আল হেরা কমপ্লেক্স” নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান উক্ত গ্রামের কৃতি সন্তান মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক সাহেবের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে- মধুপুর -মাদারগাছী কবরস্থান, একটি জামে মসজিদ ও একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা। ভবিষ্যতে এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে একটি কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও সুযোগ হলে আরও নতুন নতুন প্রকল্প এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে চালু করা হবে বলে জানা যায়। বর্তমানে যে সকল প্রতিষ্ঠান এই কমপ্লেক্সের অধীনে রয়েছে, সে সকল প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম দায়িত্ব পালন করছেন।
মধুপুর গ্রামের সব থেকে পুরাতন জামে মসজিদ গ্রামের মাঝামাঝিতে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এলাকার মধ্যে সবথেকে পুরাতন এবং বড় আকারের মসজিদ। যে মসজিদের পাশে স্থাপিত হয়েছে মধুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসা। মাওলানা আব্দুর রহীম এ মসজিদেরও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি এক সময় পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। তিনি আতাইকুলা কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
লক্ষ্য করা যায় মাওলানা আব্দুর রহীম ছেলেবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে নিবেদিত একজন ব্যাক্তি। মধুপুর বাজারে তার নিজেস্ব কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও তার আত্মীয় স্বজনসহ গ্রামের অন্যান্য ব্যাক্তিরা সেখানে নিজেস্ব জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। মাওলানা আব্দুর রহীম এই বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে সমন্বয় করে সেখানে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
পাবনা জেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম দারুল আমান ট্রাস্ট। মাওলানা আব্দুর রহীম পাবনা দারুল আমান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পাবনা জেলার আধুনিক শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আধুনিক পাবনার রুপকার পাবনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহানের মৃত্যুর পর “স্মৃতির পাতায় মাওলানা আব্দুস সোবহান ” দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রোজ শনিবার প্রিন্ট সংস্করণ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। ওই স্মৃতির পাতায় লেখা “একটি ভুল তথ্যের অপনোদন ” সাব হেডে লেখা থেকে জানা যায় ১৯৯১ সালর ১৮ ডিসেম্বর দারুল আমান ট্রাস্টের যে দলিল সম্পাদিত হয়, সেই দলিল অনুযায়ী দেখা যায় দারুল আমান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুর রহীম।

স্বচ্ছ রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত মাওলানা আব্দুর রহীম ছাত্র জীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী ও সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ইসলামী ছাত্র শিবির বৃহত্তর পাবনা জেলা (পাবনা – সিরাজগঞ্জ) শাখার সভাপতি ছিলেন। তার আগে তিনি ছাত্র শিবিরের পাবনা সদর থানা ও পাবনা সদর মহকুমার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর তাকে আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের জনশক্তি করা হয়। শিবপুর ত্বাহা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার করনিক মরহুম আবদুস ছাত্তার তখন আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। মাওলানা আব্দুর রহীমকে প্রথমে ঐ গ্রামের ইউনিট জামায়াতের সভাপতি করা হয়, পরবর্তীতে তাকে আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি করা হয় এবং একই সাথে সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের কাজ দেখা শুনার দায়িত্ব পান। মাওলানা আব্দুর রহীম শাঁখারীপাড়ার নোয়াব আলী মেম্বার কে সাথে নিয়ে ২টি ইউনিয়নের কাজ গুছিয়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাবনা সদর উপজেলা সেক্রেটারি, এরপর পাবনা সদর উপজেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তাকে (পাবনা-৫) সদর আসনের নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচনে মাওলানা আব্দুস সোবহান (পাবনা-৫) সদর আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক উপনির্বাচনে মাওলানা আব্দুর রহীমকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আমীর হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ২৬ বছর সফলতার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আমীরের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মাওলানা আব্দুর রহীম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য এবং বগুড়া অঞ্চলের অন্যতম টীম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একজন সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম জীবনে অনেকবার কারাবরণের দুঃসহ অভিজ্ঞতা ও করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
১৯৮৭ সালে ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরি মসজিদে হিন্দু উগ্রবাদীরা ভাঙচুর করে। তাদের দাবি মসজিদের ঐ জায়গায় পূর্বে সেখানে রাম মন্দির ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট বাবরের শাসন আমলে ওই রাম মন্দিরের জায়গায় মসজিদ স্থাপন করা হয়। উগ্র হিন্দুদের ওই অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে সারা মুসলিম বিশ্বে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বাংলাদেশেও এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে পাবনাতেও তৌহিদি জনতা প্রতিবাদ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে অনেকের নামে মামলা হয়। পরবর্তীতে সেই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত ৪ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। মাওলানা আব্দুর রহীম ঐ চারজনের মধ্যে একজন ছিলেন। ঐটা ছিলো তার প্রথম কারাবরণ। ১৯৯৭ সালে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে নবীন বরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের কারণে পুলিশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তৎকালীন পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহীমসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে, যেটা ছিল তার জীবনে ২য় বারের জন্য কারাবরণ। এরপর মাওলানা আব্দুর রহীম ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ৩য় বারের মত গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ ২ বছর ২ মাস কারাভোগ করে ২০১৭ সালের ৯ মার্চ জামিনে মুক্তি লাভ করেন। ২৬ মাসের জেল হাজতকালে তার রাজনৈতিক অনেক সহযোদ্ধাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছিলো তেমনই অনেক স্বজনকেও হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি কষ্টকর এবং দুঃখজনক হৃদয় বিদারক ঘটনা ছিলো ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার গর্ভধারণী মায়ের ইন্তেকাল। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আযহার দিন মরহুমার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার দূর্ভাগ্য মা জননীর জানাজায় অংশ গ্রহণের সুযোগ ছিলো না। সেদিন জেলগেট থেকে মৃত মায়ের মুখখানা দেখেই বিদায় জানাতে হয়েছিল । এতো কিছুর জন্য মাতম করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না।

সাংবাদিক হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীমের আলাদা সুনাম ও পরিচিতি রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই মাওলানা আব্দুর রহীম সাংবাদিক হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন। “দৈনিক আজাদ” পত্রিকার তিনি পাবনার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। “দৈনিক সংগ্রাম” পত্রিকার তিনি রিপোর্টার ছিলেন, পরবর্তীতে সাব এডিটর হিসেবে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যদিও বিশেষ কারণে তিনি সাব এডিটর পদে যোগ দিতে পারেন নাই। “সাপ্তাহিক জাহানে নও” এর তিনি সাংবাদিক এবং “সাপ্তাহিক সোনার বাংলা” পত্রিকাতে তিনি পাবনা সংবাদদাতা ছিলেন। কর্ম দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার কারণে Eastern News Agency (এনা)- তে সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পেয়েছিলেন যদিও তিনি সাংবাদিকতাকে প্রধান পেশা হিসেবে নিতে পারেন নাই। বর্তমানে পাবনা থেকে প্রকাশিত “দৈনিক জীবনকথা” পত্রিকার তিনি প্রকাশক এবং কিছুদিন তিনি এ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেছেন। এছাড়াও মাঝেমধ্যেই তিনি বিভিন্ন পত্রিকাতে ফিচার লিখে থাকেন।

জাতির এ মহান শিক্ষক ব্যাক্তিগতভাবে খুবই সহজ ও সাদাসিধা জীবন যাপন করেন। অনেক বড় পদে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করলেও অর্থলোভ, দূর্নিতি এবং কোনো অহংকার তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছেই একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে মাওলানা আব্দুর রহীম পাবনার সকলের কাছেই সমাদৃত এবং অনুকরণীয়।