০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন শিশু ভুল ট্রেনে পাবনায় এসেছে, পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ

Nurunnobi
  • Update Time : ০৯:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩
  • / ৭৬ Time View

সংবাদদাতা:
বাইসাইকেল ও স্কেটিং সু (চাকা লাগানো জুতা) কিনে না দেওয়ায় মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা তিন শিশু এখন পাবনা সদর থানা হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ তাদের পরিবারের সন্ধান করছে।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী। এর আগে রোববার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের রাঘপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশে হস্তান্তর করে। বর্তমানে তারা পুলিশী হেফাজতে রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া তিন শিশু হলো, ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকার মৃত সোহেল সরকারের ছেলে রাহাত সরকার (১১) ও তার মায়ের নাম রুমানা আক্তার। অপর দুই শিশুরা হলেন, ঢাকা বিমানবন্দর এলাকার সিরাজ আহম্মেদের ছেলে আকাশ আহম্মেদ (১২) ও ইয়ামিন আহম্মেদ (০৮)। সম্পর্কে এরা দুই ভাই।

দুই পরিবারের এই তিন শিশু তাদের মায়ের ওপর অভিমান করে গত শনিবার (২৮ অক্টোবর) বাসা থেকে বের হয়। ট্রেনে করে নানা বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বের হলেও তারা পথ হারিয়ে পাবনায় চলে আসে।
থানা সূত্রে জানা যায়, মায়ের কাছে বাইসাইকেল ও স্কেটিং সু আবদার করেছিল তারা। দুই পরিবার তাদের এই আবদার পূরণ না করায় তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ওই তিন শিশু প্রথমে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ট্রেন করে ময়মনসিংহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
তবে না জেনে ভুল ট্রেনে উঠে পরলে তারা ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে এসে পড়ে। পরে সেখান থেকে তারা রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেসে উঠে পাবনা সদরের রাঘবপুর রেল স্টেশনে নামে। সেখানে অপরিচিত শিশুদের দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করেন।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, পরিবারের সঙ্গে রাগ করে এই তিন শিশু ভুল ট্রেনে উঠে পাবনাতে চলে এসেছে।
তাদেরকে স্থানীয় তিন শিক্ষার্থী উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। শিশু তিনজন এর আগেও বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। আমরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলছি তাদের সূত্রধরে পরিবারে সদস্যদের সন্ধান করা হচ্ছে।

Tag :

Share This Post

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

তিন শিশু ভুল ট্রেনে পাবনায় এসেছে, পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ

Update Time : ০৯:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

সংবাদদাতা:
বাইসাইকেল ও স্কেটিং সু (চাকা লাগানো জুতা) কিনে না দেওয়ায় মায়ের ওপর অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা তিন শিশু এখন পাবনা সদর থানা হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ তাদের পরিবারের সন্ধান করছে।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী। এর আগে রোববার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের রাঘপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশে হস্তান্তর করে। বর্তমানে তারা পুলিশী হেফাজতে রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া তিন শিশু হলো, ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকার মৃত সোহেল সরকারের ছেলে রাহাত সরকার (১১) ও তার মায়ের নাম রুমানা আক্তার। অপর দুই শিশুরা হলেন, ঢাকা বিমানবন্দর এলাকার সিরাজ আহম্মেদের ছেলে আকাশ আহম্মেদ (১২) ও ইয়ামিন আহম্মেদ (০৮)। সম্পর্কে এরা দুই ভাই।

দুই পরিবারের এই তিন শিশু তাদের মায়ের ওপর অভিমান করে গত শনিবার (২৮ অক্টোবর) বাসা থেকে বের হয়। ট্রেনে করে নানা বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বের হলেও তারা পথ হারিয়ে পাবনায় চলে আসে।
থানা সূত্রে জানা যায়, মায়ের কাছে বাইসাইকেল ও স্কেটিং সু আবদার করেছিল তারা। দুই পরিবার তাদের এই আবদার পূরণ না করায় তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ওই তিন শিশু প্রথমে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ট্রেন করে ময়মনসিংহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
তবে না জেনে ভুল ট্রেনে উঠে পরলে তারা ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে এসে পড়ে। পরে সেখান থেকে তারা রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেসে উঠে পাবনা সদরের রাঘবপুর রেল স্টেশনে নামে। সেখানে অপরিচিত শিশুদের দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করেন।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, পরিবারের সঙ্গে রাগ করে এই তিন শিশু ভুল ট্রেনে উঠে পাবনাতে চলে এসেছে।
তাদেরকে স্থানীয় তিন শিক্ষার্থী উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। শিশু তিনজন এর আগেও বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। আমরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলছি তাদের সূত্রধরে পরিবারে সদস্যদের সন্ধান করা হচ্ছে।