মুক্তিকামী জনতার জাগরণে ফ্যাসিবাদের দোসররা অস্বস্তিতে—ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ১০:৩০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৯১ Time View
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এদেশে মুক্তিকামী জনতার জাগরণ দেখে কেউ কেউ ফুসফাস করছে। তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বারবার নাক গলিয়েছে, অথচ আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—তোমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাবো না, কিন্তু আমাদের বিষয়ে আর নাক গলাতে দেবো না।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে কারাগারের ভেতরে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। শহীদ করা হয়েছে সাবেক আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহানকে। তারা যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন, আমরা আজ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।” তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চাই? কখনোই না। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে গর্জে উঠতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা মজলুম ছিলাম। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরও আমরা ধৈর্য ধরেছি, প্রতিশোধের পথে যাইনি। আমরা সবসময় মানুষের পাশে চৌকিদারের ভূমিকায় থেকেছি। তবে মজলুমরা যেন কখনো জালিমে পরিণত না হয়—এটাই আমাদের আহ্বান।” জামায়াত আমীর দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা কখনো চাঁদাবাজি করিনি, মামলা বাণিজ্য করিনি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়াইনি। সাড়ে তিন কোটি কর্মীর বিশাল সংগঠন আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া কেউ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে পারে না। জামায়াতের বিরুদ্ধে কেউ কখনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের এক হাজারের বেশি সহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। একটি দিনও নিয়মিতভাবে অফিস খুলতে পারিনি। নেতৃবৃন্দের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই দুঃসময়ে যখন আমাদের সন্তানেরা রাস্তায় নেমেছে, আমরা আল্লাহর দরবারে সেজদায় ছিলাম।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা আমাদের সর্বনাশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই না। কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হবে না। আমাদের বিরুদ্ধে আটটি মামলায় একজন আসামি—এটাই আমাদের রাজনীতির প্রমাণ। আমরা অনেক সবর করেছি।”
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৬ তারিখের পর কিছু মানুষ চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জড়াচ্ছে। এটি কোনো ভালো লক্ষণ নয়। আমরা সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজদের হাত কঠোরভাবে বন্ধ করে দেবো। মানুষের জন্য হালাল রুজির ব্যবস্থা করবো, যেন সবাই সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশে সবার জন্য সমান আইন থাকবে। আধিপত্যবাদ ও বস্তাপচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।” গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানেই আজাদী। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ১০ দল মানেই বাংলাদেশ—সব দলের প্রতি আমাদের সমান সম্মান থাকবে। আমরা সবাই এক।”

সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম,
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আসগর আলীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।









