০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের হৃদয়ের ভাষা বুঝে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে: রফিকুল ইসলাম খান

Nurunnobi
  • Update Time : ০৮:১৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫৮ Time View

oplus_1024

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে জনগণ। তাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জনগণের হৃদয়ের ভাষা বোঝা, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আমাদের কর্মসূচিকে একসূত্রে গাঁথা। আমরা যদি জনগণের সেন্টিমেন্টকে সঠিকভাবে ধারণ করে তা কাজে লাগাতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। তারা আর দুর্নীতি, অবিচার, অন্যায় ও শোষণ চায় না। মানুষ এখন ন্যায়ের পক্ষে, ইসলামি মূল্যবোধের পক্ষে, এবং একটি সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে। জামায়াতে ইসলামী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই রাজনৈতিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কখনোই ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়াই না, আমরা আদর্শ ও নীতির রাজনীতি করি। জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবো।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পাবনা জেলা জামায়াত আয়োজিত এক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে আয়োজিত এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয় দারুল আমান ট্রাস্টের আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার অডিটোরিয়ামে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনে বিজয় শুধু স্লোগান দিয়ে আসে না, তার জন্য চাই পরিশ্রম, ত্যাগ আর জনসম্পৃক্ততা। আমাদের প্রতিটি কর্মীকে তৃণমূলে জনগণের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ইসলামি শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের যে আশা আমরা করি, তা জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিক—এই চেষ্টাই আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই শুধু একটি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং একটি সত্যভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় মানে ন্যায়, নীতি ও আদর্শের বিজয়।”

অনুষ্ঠানে ৬৯ নম্বর পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিনকে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রার্থী দিচ্ছি যিনি যোগ্যতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততার মডেল। কে এম হেসাব উদ্দিন একজন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন সংগ্রামী মানুষ। তাঁকে বিজয়ী করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন করাই আমাদের মূল কৌশল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান জামায়াতের সব ইউনিট ও শাখাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এখন সময় কাজের। শুধু বক্তৃতা নয়, মাঠে ময়দানে গিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা—প্রতিটি স্তরে আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের দুঃখ-কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়ালেই তারা আমাদের বিশ্বাস করবে। তখনই দাঁড়িপাল্লা হয়ে উঠবে তাদের আশার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী কাজকে আমরা ইবাদতের অংশ মনে করি। তাই প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব শুধু দলকে এগিয়ে নেওয়া নয়, বরং দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য আলোকিত পথ দেখানো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান।
বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসেম, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী ইকবাল হোসাইন, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ডা. আব্দুল বাসেত খানসহ আরও অনেকে।

নেতারা বলেন, “দেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামি আদর্শভিত্তিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করা জরুরি। জামায়াতের প্রার্থীরা আদর্শ, নেতৃত্ব ও ত্যাগের প্রতীক।”

Tag :

Share This Post

About Author Information

জনগণের হৃদয়ের ভাষা বুঝে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে: রফিকুল ইসলাম খান

Update Time : ০৮:১৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে জনগণ। তাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জনগণের হৃদয়ের ভাষা বোঝা, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আমাদের কর্মসূচিকে একসূত্রে গাঁথা। আমরা যদি জনগণের সেন্টিমেন্টকে সঠিকভাবে ধারণ করে তা কাজে লাগাতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। তারা আর দুর্নীতি, অবিচার, অন্যায় ও শোষণ চায় না। মানুষ এখন ন্যায়ের পক্ষে, ইসলামি মূল্যবোধের পক্ষে, এবং একটি সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে। জামায়াতে ইসলামী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই রাজনৈতিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কখনোই ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়াই না, আমরা আদর্শ ও নীতির রাজনীতি করি। জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবো।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পাবনা জেলা জামায়াত আয়োজিত এক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে আয়োজিত এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয় দারুল আমান ট্রাস্টের আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার অডিটোরিয়ামে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনে বিজয় শুধু স্লোগান দিয়ে আসে না, তার জন্য চাই পরিশ্রম, ত্যাগ আর জনসম্পৃক্ততা। আমাদের প্রতিটি কর্মীকে তৃণমূলে জনগণের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ইসলামি শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের যে আশা আমরা করি, তা জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিক—এই চেষ্টাই আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই শুধু একটি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং একটি সত্যভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় মানে ন্যায়, নীতি ও আদর্শের বিজয়।”

অনুষ্ঠানে ৬৯ নম্বর পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিনকে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রার্থী দিচ্ছি যিনি যোগ্যতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততার মডেল। কে এম হেসাব উদ্দিন একজন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন সংগ্রামী মানুষ। তাঁকে বিজয়ী করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন করাই আমাদের মূল কৌশল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান জামায়াতের সব ইউনিট ও শাখাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এখন সময় কাজের। শুধু বক্তৃতা নয়, মাঠে ময়দানে গিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা—প্রতিটি স্তরে আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের দুঃখ-কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়ালেই তারা আমাদের বিশ্বাস করবে। তখনই দাঁড়িপাল্লা হয়ে উঠবে তাদের আশার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী কাজকে আমরা ইবাদতের অংশ মনে করি। তাই প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব শুধু দলকে এগিয়ে নেওয়া নয়, বরং দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য আলোকিত পথ দেখানো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান।
বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসেম, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী ইকবাল হোসাইন, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ডা. আব্দুল বাসেত খানসহ আরও অনেকে।

নেতারা বলেন, “দেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামি আদর্শভিত্তিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করা জরুরি। জামায়াতের প্রার্থীরা আদর্শ, নেতৃত্ব ও ত্যাগের প্রতীক।”