০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাটমোহর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা

Nurunnobi
  • Update Time : ০৭:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৭৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃক্তরা।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি )সকালে উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামে গোয়াল ঘর থেকে মায়ের এবং বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের মেহগনি গাছের ডালে গলায় মাফলার পেঁচানো ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি ) দিবাগত রাতের যে কোন এক সময় এই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী দিঘুলিয়া গ্রামের আব্দুর রশীদের স্ত্রী লাবনী খাতুন এবং তাদের সন্তান তৃতীয় শ্রেণিতে পরুয়া রিয়াদ মাহমুদ।

সরেজমিন গিয়ে স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর ধরে লাবনী খাতুনের স্বামী আব্দুর রশীদ মালয়েশিয়ায় থাকেন। লাবনী খাতুনের একমাত্র মেয়ে রিয়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। শাশুড়ির সাথে একই বাড়িতে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন লাবনী খাতুন। নতুন বাড়ি বানাবেন বলে অতি সম্প্রতি ইট ও কেনেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে মা-ছেলে ঘুমাতে যান। সকালে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাাকি করেন। পরে স্বজনরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গোয়াল ঘরে লাবনী খাতুনের পা বাধা মরদেহ দেখে রিয়াদের খোঁজ শুরু করেন। এরপর বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে মেহগনি গাছের ডালে রিয়াদের গলায় মাফলার পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

এদিকে শোবার ঘরে এলোমেলোভাবে পড়েছিল জামাকাপড়সহ বিভিন্ন জিনিষপত্র। ঘরের দরজা ছিল ভাঙ্গা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সাকের্ল) হাবিবুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজাসহ অন্য কর্মকর্তারা। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়। তবে কী কারণে এই হত্যাকান্ড তা জানাতে পারেনি পুলিশ বা স্বজনরা।

এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম জানান, কেন, কীভাবে বা কারা এই হত্যা করেছে এটা বের করতে সময় লাগবে। আমরা সবাই মাঠে নেমেছি। কিছু ক্লু পেয়েছি। যাচাইবাছাই চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ধরে ফেলবো। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

Tag :

Share This Post

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

চাটমোহর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা

Update Time : ০৭:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃক্তরা।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি )সকালে উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামে গোয়াল ঘর থেকে মায়ের এবং বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের মেহগনি গাছের ডালে গলায় মাফলার পেঁচানো ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি ) দিবাগত রাতের যে কোন এক সময় এই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী দিঘুলিয়া গ্রামের আব্দুর রশীদের স্ত্রী লাবনী খাতুন এবং তাদের সন্তান তৃতীয় শ্রেণিতে পরুয়া রিয়াদ মাহমুদ।

সরেজমিন গিয়ে স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর ধরে লাবনী খাতুনের স্বামী আব্দুর রশীদ মালয়েশিয়ায় থাকেন। লাবনী খাতুনের একমাত্র মেয়ে রিয়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। শাশুড়ির সাথে একই বাড়িতে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন লাবনী খাতুন। নতুন বাড়ি বানাবেন বলে অতি সম্প্রতি ইট ও কেনেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে মা-ছেলে ঘুমাতে যান। সকালে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাাকি করেন। পরে স্বজনরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গোয়াল ঘরে লাবনী খাতুনের পা বাধা মরদেহ দেখে রিয়াদের খোঁজ শুরু করেন। এরপর বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে মেহগনি গাছের ডালে রিয়াদের গলায় মাফলার পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

এদিকে শোবার ঘরে এলোমেলোভাবে পড়েছিল জামাকাপড়সহ বিভিন্ন জিনিষপত্র। ঘরের দরজা ছিল ভাঙ্গা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সাকের্ল) হাবিবুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজাসহ অন্য কর্মকর্তারা। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়। তবে কী কারণে এই হত্যাকান্ড তা জানাতে পারেনি পুলিশ বা স্বজনরা।

এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম জানান, কেন, কীভাবে বা কারা এই হত্যা করেছে এটা বের করতে সময় লাগবে। আমরা সবাই মাঠে নেমেছি। কিছু ক্লু পেয়েছি। যাচাইবাছাই চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ধরে ফেলবো। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।