শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত পাবনার জনজীবন, ঈশ্বরদীতে চরম দুর্ভোগ
- Update Time : ০২:২৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৫৭ Time View
স্টাফ রিপোর্টারঃ
পৌষের শুরুতেই শীতের তীব্রতায় স্থবির হয়ে পড়েছে পাবনা জেলার জনজীবন। পাবনা সদর, সাঁথিয়া, বেড়া, সজানগর, চাটমহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, আটঘরিয়া সহ বিশেষ করে ঈশ্বরদী উপজেলায় ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপটে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আকাশ, বাতাস ও চারপাশের প্রকৃতি যেন গভীর নীরবতায় ঢেকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও চলাচলের ওপর।
সন্ধ্যা নামার আগেই ঈশ্বরদী ও আশপাশের এলাকাগুলো ধূসর কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। নদী-খাল, ধানক্ষেত ও খোলা মাঠ কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিসীমা থেকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপ বেড়ে যায়। ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বাড়ে যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরতে দেখা যায়। দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা মিলছে না।

ঘন কুয়াশার কারণে পাবনা-ঈশ্বরদী সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে এবং সারাক্ষণ হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বাড়ছে ভোগান্তি।
শীতের সবচেয়ে বড় আঘাত এসে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। দিনমজুর, ভ্যানচালক, কুলি, চা-দোকানি ও ফেরিওয়ালারা পড়েছেন চরম সংকটে। ঠান্ডার ভয়ে মানুষ ঘরবন্দি থাকায় বাজার ও সড়কে লোকসমাগম কমে গেছে, ফলে তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ঈশ্বরদী বাজারের দিনমজুর রব্বেল প্রামানিক বলেন, “অতিরিক্ত শীত আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে বাজারে মানুষ কম। কুলির কাজ করে সংসার চালাই। এভাবে শীত বাড়তে থাকলে পরিবার নিয়ে খুব বিপদে পড়তে হবে।” শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা। তবে বাজারে শীতবস্ত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই পুরোনো ও অপর্যাপ্ত গরম কাপড়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, “ঈশ্বরদীতে শীতের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমাদের উপজেলায় শীতবস্ত্রের সংখ্যা সীমিত হলেও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে পাবনা জেলার শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শীত মোকাবিলায় দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









