বেড়ায় ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-ছেলেকে পিটিয়ে আহত, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ
- Update Time : ১১:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ৪৭৮ Time View
বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মা ও ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। গোয়ালঘর থেকে একটি গরু, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান শনিবার (৩০ আগস্ট) আমিনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ও শুক্রবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার জাতসাখিনী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের গাংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আব্দুর রশিদের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল মাহফুজুর রহমানদের। কিছুদিন আগে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে আমিনপুর বাজারে হাইস্কুল গেটের সামনে ফোনে কথা বলার সময় ফারুক শেখ ও ইলিয়াস শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী মাহফুজুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। তাকে বেধড়ক মারধর করে তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরদিন শুক্রবার সকালে আবারও হামলাকারীরা মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলায় তার মা মাবিয়া খাতুনও গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি থেকে কিস্তির নগদ ৬০ হাজার টাকা, বাড়ির দলিলপত্র ও গোয়ালঘরে থাকা একটি গরু (মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মামলা না করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশ ও দেশ ছাড়ার হুমকিও দিয়েছে অভিযুক্তরা। ভয়ে পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাজারে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে হাত ভেঙে দিয়েছে। পরদিন আমাদের বাড়িতে হামলা করে টাকা, গরু ও দলিলপত্র লুট করে নেয়। আমার মাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করে। এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক শেখ ও ইলিয়াস শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তারা ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”









