পাবনার বেড়ায় উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগি
- Update Time : ০২:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৪৭ Time View
ওয়াহিদুজ্জামানঃ
পাবনার বেড়া উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে। গত তিন মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থেকে প্রায় তিন শো রোগি চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করছেন আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হবে।
বেড়া হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের নতুন ভবনে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। জুলাই থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত সেখান থেকে প্রায় তিনশো রোগিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।এছাড়া অনেক আক্রান্ত রোগি বিভিন্ন ক্লিনিক ও বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগিদের একজন উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের মঈন উদ্দিন (৩৫) জানান তিনি গত দুই সপ্তাহে আগে ঢাকা থেকে সুস্থ্য শরীর নিয়ে বাড়িতে এসেছেন। তিনি যেখানে থাকেন সেখানে মশার উপদ্রপ ছিল না বললেই চলে। প্রচন্ড জ্বর ও শরীরের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে এসে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তার দাবি বাড়িতে আসার পর মশার কামড়ে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
বেড়া আলহেরা নগরের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন জানান তার বাড়ির পাশের আগাছায় ভরা সেচ খালের বদ্ধ পানিতে উৎপাদিত মশার অত্যাচারে দিন রাত মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। এর মধ্যে গত সপ্তাতে তার দুই ছেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।বেড়া হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তারা বর্তমান সুস্থ হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার পেছনের অন্যতম কারণ হচ্ছে যত্রতত্র মশার প্রজননক্ষেত্র।বিশেষ করে বেড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন জলাশয়, ডোবা, ও পানি উন্নয়ন বিভাগের সেচ ক্যানেলের জমে থাকা পানিতে বিপুল পরিমান মশার জন্ম হচ্ছে।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহমুদুল করিম বলেন,গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সে কারণে হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। ডেঙ্গু বিস্তার রোধে সচেতনতা মূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বর্তমান ১০ জন রোগি চিকিৎসা নিচ্ছেন।তার দেয়া তথ্য মতে জুলাই মাসে ৪৫ জন আগস্ট মাসে ৯৭ জন সেপ্টেম্বর মাসে ৮৫ জন অক্টোবর মাসে গতকাল পর্যন্ত ২০ জনের মতো চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে তার মতে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হবে।কারণ অনেক উচ্চ মধ্যেবিত্ত রোগী স্থানীয় বিভিন্ন বে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ও আবার অনেকে সনাক্ত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে বেড়া পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে পৌর নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পৌর এলাকার শেখপাড়া মহল্লার নাইম শেখ, আজগর শেখ,নাজির শেখ নামের একাধিক বাসিন্দা দাবি করেন। তার মহল্লার বেশ কয়েক জায়গায় জলাবদ্ধতা ও ময়লা আবর্জনার স্তপ সৃস্টি হয়ে আছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে সেগুলোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সেখানে দিনরাত মশাগুলো ঘিন ঘিন করছে।
এ বিষয়ে বেড়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল আলম বলেন মশা নিধনে ৮ টি ফোকার মেশিন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া এলাকাবাসীকে সচেতন করতে ও মশার উৎসস্থল ধ্বংস করতে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।









