০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় ৭ দফা দাবিতে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

Nurunnobi
  • Update Time : ০৫:১৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২৬১ Time View

Oplus_16908290

স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাবনায় ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, পাবনা জেলা শাখা। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষকরা পাবনা কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ও শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে ফেডারেশনের পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি ড. ইদ্রিস আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের পাবনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি এ এস এম আব্দুল্লাহ, শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের প্রতিনিধি মাওলানা জাকারিয়া হুসাইন, প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসাইন, অধ্যক্ষ আনছার উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা সাইয়েদা সেলিনা বানু কাকলি, আটঘরিয়া উপজেলা শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম, এবং ফেডারেশনের সভাপতির পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ।

বক্তারা ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, “শিক্ষক সমাজ দেশের বিবেক। তাঁদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি শিক্ষা ও মানবতার ওপরও আঘাত।” তাঁরা আহত শিক্ষকদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও একটি টেকসই ও যুগোপযোগী শিক্ষা নীতিমালার অভাব আজ শিক্ষাখাতের মূল সংকট। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য এই ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে একটি নৈতিক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শিক্ষক ফেডারেশনের ৭ দফা দাবিসমূহ:
১. বাড়ি ভাড়া ভাতা ৪৫% করতে হবে।
২. চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করতে হবে।
৪. প্রস্তাবিত ১০৮৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
৫. নন-এমপিও শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে।
৬. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
৭. স্বৈরাচারী আমলে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা নির্বাহী আদেশে পরিশোধ করতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলটি পাবনা কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে শহীদ চত্বর, আব্দুল হামিদ রোড ও জিরো পয়েন্ট হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম শিক্ষকদের দাবির স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণের আশ্বাস দেন।

এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষক সমাজ আবারও তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার বার্তা দিলেন।

Tag :

Share This Post

About Author Information

পাবনায় ৭ দফা দাবিতে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

Update Time : ০৫:১৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাবনায় ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, পাবনা জেলা শাখা। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষকরা পাবনা কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ও শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে ফেডারেশনের পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি ড. ইদ্রিস আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের পাবনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি এ এস এম আব্দুল্লাহ, শহীদ এম মনসুর আলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের প্রতিনিধি মাওলানা জাকারিয়া হুসাইন, প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসাইন, অধ্যক্ষ আনছার উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা সাইয়েদা সেলিনা বানু কাকলি, আটঘরিয়া উপজেলা শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম, এবং ফেডারেশনের সভাপতির পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ।

বক্তারা ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, “শিক্ষক সমাজ দেশের বিবেক। তাঁদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি শিক্ষা ও মানবতার ওপরও আঘাত।” তাঁরা আহত শিক্ষকদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও একটি টেকসই ও যুগোপযোগী শিক্ষা নীতিমালার অভাব আজ শিক্ষাখাতের মূল সংকট। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য এই ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে একটি নৈতিক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শিক্ষক ফেডারেশনের ৭ দফা দাবিসমূহ:
১. বাড়ি ভাড়া ভাতা ৪৫% করতে হবে।
২. চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করতে হবে।
৪. প্রস্তাবিত ১০৮৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
৫. নন-এমপিও শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে।
৬. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
৭. স্বৈরাচারী আমলে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা নির্বাহী আদেশে পরিশোধ করতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলটি পাবনা কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে শহীদ চত্বর, আব্দুল হামিদ রোড ও জিরো পয়েন্ট হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম শিক্ষকদের দাবির স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণের আশ্বাস দেন।

এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষক সমাজ আবারও তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার বার্তা দিলেন।