০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় অভিযানেও থামছে না আ.লীগ নেতা বালুর ব্যবসা, রাস্তা-কালভার্ট ভেঙে জলাবদ্ধতার মুখে শত শতবিঘা জমি

Nurunnobi
  • Update Time : ০৩:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫৬০ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না পাবনার ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ বালুর ব্যবসা। নদী ও বিল থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে চলছে কোটি টাকার লেনদেন। এনিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই করা হচ্ছে মারধর। বালুর গাড়ির চাপে ভেঙে পড়েছে কালভার্ট। এতে বিলের পানি আটকে গিয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখে দিয়েছে।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দল ক্ষমতায় থাকার সময়ে অবৈধ বালুর মহল গড়ে তোলেন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমড়ার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন প্রামাণিক ও আনোয়ার হোসেন। দল ক্ষমতাচ্যুত হলেও এখনও অবৈধ বালুর সম্রাজ্য ধরে রেখেছেন তারা। প্রশাসনের অভিযানের পরও তাদের কর্মকাণ্ড থেমে নেই। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন তাদের অবৈধ বালু মহলে অভিযান চালান। ভেঙে দেয়া হয় বালু উত্তোলনের পাইপসহ যন্ত্রপাতি।

সেই অভিযানের জন্য সন্দেহ করা হয় প্রতিবেশী সাবেক সেনা সদস্য ইমরান হোসেনকে। তাকে মারধর করে তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এবিষয়ে মামলা হলেও তাদের হুমকিতে এলাকায় থাকতে পারছেন না সাবেক এই সেনা সদস্য ও তার পরিবার। বালুর ভারি ভারি গাড়ির যাতায়াতের কারণে ইতোমধ্যেই চলাচলের রাস্তা ভেঙে গেছে। বিলের পানি যাতায়াতের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এতে বিলের পানি যাতায়াতের বন্ধ হয়ে একপাশে জলাবদ্ধতা আরেক পাশে পানি শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, বড় বংশগত কারণে এলাকায় তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। ওই গ্রামের অধিকাংশ লোকজনই তাদের বংশের। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না। শুধু বালু নয় কবিরাজী ব্যবসা নানা অপকর্ম চলে কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সেখানে উপজেলা প্রশাসন থেকে অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের পর আমাকে সন্দেহ করা হয় যে- আমি প্রশাসন খবর দিয়ে ও তথ্য দিয়ে অভিযান চালিয়েছি। এজন্য তারা আমাকে রাস্তায় আমার ওপর হামলা করে হত্যাচেষ্টা করেন। কিন্তু আমি দৌড়ে প্রাণ রক্ষা করি। আমার গাড়ি ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিলে আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন প্রামাণিক ও আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আনোয়ারের ছেলে মো. পাপেল, বাতেনের দুই ভাতিজা নুর নবী ও মাহফুজুর রহমান বলেন, অনেক আগে থেকেই তারা বালু ব্যবসা করছেন। এখন এটা নিয়ে অনেকেই ষড়যন্ত্র করছেন। আমাদের এলাকার কেউ এটা নিয়ে কথা বলেন না কিন্তু আশপাশের দুই একজন এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন।

এবিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ জানান, আমরা গতকালও অভিযান চালিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা পলাতক রয়েছে। আর ভাঙ্গা রাস্তা ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরামত করা হয়েছে।

Tag :

Share This Post

About Author Information

পাবনায় অভিযানেও থামছে না আ.লীগ নেতা বালুর ব্যবসা, রাস্তা-কালভার্ট ভেঙে জলাবদ্ধতার মুখে শত শতবিঘা জমি

Update Time : ০৩:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না পাবনার ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ বালুর ব্যবসা। নদী ও বিল থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে চলছে কোটি টাকার লেনদেন। এনিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই করা হচ্ছে মারধর। বালুর গাড়ির চাপে ভেঙে পড়েছে কালভার্ট। এতে বিলের পানি আটকে গিয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখে দিয়েছে।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দল ক্ষমতায় থাকার সময়ে অবৈধ বালুর মহল গড়ে তোলেন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমড়ার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন প্রামাণিক ও আনোয়ার হোসেন। দল ক্ষমতাচ্যুত হলেও এখনও অবৈধ বালুর সম্রাজ্য ধরে রেখেছেন তারা। প্রশাসনের অভিযানের পরও তাদের কর্মকাণ্ড থেমে নেই। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন তাদের অবৈধ বালু মহলে অভিযান চালান। ভেঙে দেয়া হয় বালু উত্তোলনের পাইপসহ যন্ত্রপাতি।

সেই অভিযানের জন্য সন্দেহ করা হয় প্রতিবেশী সাবেক সেনা সদস্য ইমরান হোসেনকে। তাকে মারধর করে তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এবিষয়ে মামলা হলেও তাদের হুমকিতে এলাকায় থাকতে পারছেন না সাবেক এই সেনা সদস্য ও তার পরিবার। বালুর ভারি ভারি গাড়ির যাতায়াতের কারণে ইতোমধ্যেই চলাচলের রাস্তা ভেঙে গেছে। বিলের পানি যাতায়াতের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এতে বিলের পানি যাতায়াতের বন্ধ হয়ে একপাশে জলাবদ্ধতা আরেক পাশে পানি শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, বড় বংশগত কারণে এলাকায় তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। ওই গ্রামের অধিকাংশ লোকজনই তাদের বংশের। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না। শুধু বালু নয় কবিরাজী ব্যবসা নানা অপকর্ম চলে কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সেখানে উপজেলা প্রশাসন থেকে অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের পর আমাকে সন্দেহ করা হয় যে- আমি প্রশাসন খবর দিয়ে ও তথ্য দিয়ে অভিযান চালিয়েছি। এজন্য তারা আমাকে রাস্তায় আমার ওপর হামলা করে হত্যাচেষ্টা করেন। কিন্তু আমি দৌড়ে প্রাণ রক্ষা করি। আমার গাড়ি ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিলে আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন প্রামাণিক ও আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আনোয়ারের ছেলে মো. পাপেল, বাতেনের দুই ভাতিজা নুর নবী ও মাহফুজুর রহমান বলেন, অনেক আগে থেকেই তারা বালু ব্যবসা করছেন। এখন এটা নিয়ে অনেকেই ষড়যন্ত্র করছেন। আমাদের এলাকার কেউ এটা নিয়ে কথা বলেন না কিন্তু আশপাশের দুই একজন এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন।

এবিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ জানান, আমরা গতকালও অভিযান চালিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা পলাতক রয়েছে। আর ভাঙ্গা রাস্তা ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরামত করা হয়েছে।