০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের সংবাদ সম্মেলন

Nurunnobi
  • Update Time : ০৮:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০১ Time View

Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছেন পাবনা-৫ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় পাবনা শহরে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে অযৌক্তিক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক।”

প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন আরও অভিযোগ করেন, পাবনা-৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় চাকরিরত থেকে পরিচয় গোপন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

তিনি তাঁর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রতিপক্ষের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে নারী কর্মীদের কাজে বাধা দিচ্ছে এবং লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে বলেন, এটি সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে জনগণের ভোটাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

শেষে তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে সমান আচরণ নিশ্চিত করে অবিলম্বে সব ধরনের বাধা অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পাবনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম, পাবনা পৌর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ, পাবনা সদর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, পাবনা পৌর জামায়াতের সাবেক আমির আবিদ হাসান দুলাল সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।

Tag :

Share This Post

About Author Information

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৮:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছেন পাবনা-৫ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় পাবনা শহরে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে অযৌক্তিক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক।”

প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন আরও অভিযোগ করেন, পাবনা-৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় চাকরিরত থেকে পরিচয় গোপন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

তিনি তাঁর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রতিপক্ষের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে নারী কর্মীদের কাজে বাধা দিচ্ছে এবং লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে বলেন, এটি সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে জনগণের ভোটাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

শেষে তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে সমান আচরণ নিশ্চিত করে অবিলম্বে সব ধরনের বাধা অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পাবনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম, পাবনা পৌর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ, পাবনা সদর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, পাবনা পৌর জামায়াতের সাবেক আমির আবিদ হাসান দুলাল সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।