০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে সংবাদ সম্মেলন করতে দিল না পাবনা প্রেসক্লাব!

Nurunnobi
  • Update Time : ১১:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৫৯ Time View

Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে। একটি দলের পক্ষ অবলম্বন করে জামায়াতে ইসলামকে সংবাদ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, পাবনার বুদেরহাটে নারীকর্মীদের ওপর হামলা এবং সদরের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বে অভিযোগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনটি পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে করার আয়োজন করলে প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সেক্রেটারি জহুরুল ইসলাম ও দফতর সম্পাদক মনিরুজ্জামানের শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি জামায়াত। কোনো কারণ ছাড়াই মৌখিকভাবে তাদের প্রোগ্রাম নিষেধ করে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় দলের নির্বাচনী কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত।

এর আগেও প্রেসক্লাবে জামায়াতের একাধিকবার প্রোগ্রাম আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। ৫ আগস্টের পর বিএনপির একাংশ ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের বর্তমান সেক্রেটারি জেলা বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক ও শিমুল বিশ্বাসের একান্ত আস্থাভাজন জহুরুল ইসলাম। প্রেসক্লাব আয়োজিত প্রায় সকল অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে অতিথি করা হলেও আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করা হয় না।

পাবনা পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পাবনা প্রেসক্লাবে আমাদের কোনো প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয় না, আমরাও করি না। কিন্তু কয়েকদিন আগে ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলু ভাই আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি অতীত ভুলে গিয়ে ক্লাবে আমাদের প্রোগ্রাম করার আহবান জানান। তার কথা বিশ্বাস করে আমরা বৃহস্পতিবার ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কিন্তু তারা আবারও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করলো।

এবিষয়ে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, আমার সঙ্গে ইকবাল (জামায়াতের প্রার্থী) ভাইয়ের সঙ্গে এবিষয়ে কথা হয়েছিল, আমি তো মিলনায়তন ভাড়া নিয়ে ডিল করি না, করে সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষ। মিলনায়তন ভাড়া ছিল না কি যেন ছিল, তবে আমি জানি না। আমি বাহিরে ছিলাম।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণাধীন পাবনা প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ওই প্রেসক্লাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে সেদিন। হামলার পর বেশ কয়েকদিন পালিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দরা এবং বেশ কিছুদিন প্রেসক্লাব তালাবদ্ধ ছিল। পরে বিএনপির একাংশের নেতৃত্বে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে থাকে।

Tag :

Share This Post

About Author Information

জামায়াতকে সংবাদ সম্মেলন করতে দিল না পাবনা প্রেসক্লাব!

Update Time : ১১:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে। একটি দলের পক্ষ অবলম্বন করে জামায়াতে ইসলামকে সংবাদ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, পাবনার বুদেরহাটে নারীকর্মীদের ওপর হামলা এবং সদরের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বে অভিযোগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনটি পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে করার আয়োজন করলে প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সেক্রেটারি জহুরুল ইসলাম ও দফতর সম্পাদক মনিরুজ্জামানের শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি জামায়াত। কোনো কারণ ছাড়াই মৌখিকভাবে তাদের প্রোগ্রাম নিষেধ করে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় দলের নির্বাচনী কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত।

এর আগেও প্রেসক্লাবে জামায়াতের একাধিকবার প্রোগ্রাম আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। ৫ আগস্টের পর বিএনপির একাংশ ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের বর্তমান সেক্রেটারি জেলা বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক ও শিমুল বিশ্বাসের একান্ত আস্থাভাজন জহুরুল ইসলাম। প্রেসক্লাব আয়োজিত প্রায় সকল অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে অতিথি করা হলেও আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করা হয় না।

পাবনা পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পাবনা প্রেসক্লাবে আমাদের কোনো প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয় না, আমরাও করি না। কিন্তু কয়েকদিন আগে ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলু ভাই আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি অতীত ভুলে গিয়ে ক্লাবে আমাদের প্রোগ্রাম করার আহবান জানান। তার কথা বিশ্বাস করে আমরা বৃহস্পতিবার ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কিন্তু তারা আবারও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করলো।

এবিষয়ে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, আমার সঙ্গে ইকবাল (জামায়াতের প্রার্থী) ভাইয়ের সঙ্গে এবিষয়ে কথা হয়েছিল, আমি তো মিলনায়তন ভাড়া নিয়ে ডিল করি না, করে সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষ। মিলনায়তন ভাড়া ছিল না কি যেন ছিল, তবে আমি জানি না। আমি বাহিরে ছিলাম।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণাধীন পাবনা প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ওই প্রেসক্লাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে সেদিন। হামলার পর বেশ কয়েকদিন পালিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দরা এবং বেশ কিছুদিন প্রেসক্লাব তালাবদ্ধ ছিল। পরে বিএনপির একাংশের নেতৃত্বে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে থাকে।