আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থাঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার
- Update Time : ১০:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৭২ Time View
রফিকুল আলম রঞ্জুঃ
সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভরনেন্স (সিআইপিজি)এর উদ্যোগে “আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা :পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য পেশ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম।
সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভরনেন্স (সিআইপিজি) পাবনার সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে মোঃ ইকরামুল হকের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদশ শিক্ষক ফেডারেশন পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারী ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন সে পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুলতান মাহমুদ খান এহিয়া , দৈনিক জীবন কথা পত্রিকার সম্পাদক এ এস এম আব্দুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, পাবনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন, প্রেসক্লাব পাবনার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম রঞ্জু, ডাক্তার মাসুদ রানা সরকার, পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আনসার উল্লাহ
প্রমুখ ।
প্রবন্ধে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের এই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পিআর পদ্ধতি যদি চালু হয় তাহলে তা সুশাসন নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’ নির্বাচন বিশ্লেষকগণ আরো বলছেন, এ পদ্ধতিতে নির্বাচনে প্রত্যেকটি ভোট কাজে লাগে এবং প্রতিটি ভোট সংসদে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। তাছাড়া একটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ও হারের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতি চালু হলে সবার জন্য ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, প্রতিটি ভোট কার্যকর হবে, জোট ও সমঝোতার মাধ্যমে বিভাজন কমবে এবং রাজনৈতিক সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতা তৈরি হবে| একইসঙ্গে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠবে, সুষ্ঠ নির্বাচন ও স্বচ্ছতা বাড়বে | দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রভাব হ্রাস পাবে এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত হবে|

এ প্রবন্ধে গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থায় প্রচলিত প্রধান কয়েকটি নির্বাচন পদ্ধতি, বাংলাদেশে প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা, আগামী নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা এবং সম্প্রতি পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে যে সমালোচনা করা হচ্ছে তার জবাব দেওয়া হয়েছে |
বক্তারা আরো বলেন, একটি সুশৃঙ্খল ও অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য পিআর পদ্ধতি চালু করার দাবি নতুন কিছু নয়। কিছু রাজনৈতিক দল অনেক দিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছে ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই আলোচনায় জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সহ বেশ কিছু দল এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাবিবুল আউয়াল কমিশনের ডাকা সংলাপেও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কেননা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নির্বাচন ব্যবস্থা একটি অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করার অন্যতম উপায়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ইতোমধ্যে এই পদ্ধতি গ্রহণ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করেছে।
বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে, যাতে জাতীয় সংসদে সকল শ্রেণি, মত ও দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়|










