শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বহিরাগতদের দখলে প্রাচীরের অভাবে ব্যাহত পাঠদান
- Update Time : ১২:৫২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / ১৩ Time View
মোঃ নুরুন্নবী (পাবনা):
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সময়েও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত, আড্ডা এবং মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সচেতন মহলের দাবি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কিন্তু সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়টি কার্যত উন্মুক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। যে কেউ যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে, ফলে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়েও অনেক বহিরাগত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মোটরসাইকেল রেখে বিভিন্ন কাজে চলে যান। আবার কেউ কেউ বিদ্যালয় মাঠে বসে আড্ডা দেন। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠাতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকেন। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় তারা হতাশ। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান, একটি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমানা প্রাচীর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ হবে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সম্পদও সুরক্ষিত থাকবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি টেকসই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বিদ্যালয় চলাকালীন বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।








