যাঁদের ত্যাগে বিনিময়ে পাবনায় ইসলামী আন্দোলন
- Update Time : ০৬:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ৬২ Time View
মোঃ নূরুন্নবী :
মাহতাব উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতাঃ
তৎকালিন পৃর্ব পাকিস্তানে পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে ইসলামী আন্দোলনের গোড়াপত্তনে যাঁরা কাজ করেছেন মাহতাব উদ্দিন তাদের মধ্যে একজন। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনে সে সময় জনশক্তি এবং নেতৃত্ব উভয়ই সংকটে ছিল। নতুন সংসার গোছাতে যেমন সবদিক দিয়ে হিমসিম খেতে হয়। অনুরূপভাবে নতুন সংগঠনের ক্ষেত্রেও বিষয়টা সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রথমে না থাকে কাজ করার জনশক্তি, না থাকে একাজ আঞ্জাম দেয়ার জন্য পরযাপ্ত পরিমাণ অর্থ, যে কারণে একটি সংগঠনকে মজবুত সংগঠনে পরিণত করতে সময় লাগে। যারা এ সংগঠনে প্রথম কাজ করেন তাদেরকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে কাজ আঞ্জাম দিতে হয়েছে। মাহতাব উদ্দিন সে সময় ছাত্র সমাজের নিকট তুলে ধরে একটি গণসংগঠনে পরিণত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় তার এ অবদান অবশ্যই স্মরণীয়।
পরিচয়ঃ
১৯৪৯ ঈসায়ী সনের ১০ অক্টোবর বাংলা ১৩৫৫ সনের ২৫ আশ্বিন বুধবার ভোরে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জোনা রামচন্দ্রপুর গ্ৰামে মাতুলালয়ে জন্মগ্ৰহন করেন। তার পিতা নাম মৌলভী মমতাজ উদ্দিন, মায়ের নাম হালিমা খাতুন। গ্ৰাম- সুখচর, ইউনিয়ন চরতারাপুর, পাবনা সদর পাবনা। তিনি ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সবার বড়।
শিক্ষাগ্ৰহনঃ
১৯৫৬ ঈসায়ী সনে সুখচর মক্তবে পড়ালেখা শুরু। ১৯৫৯ ঈসায়ী সনে তারাবাড়িয়া আবু বকর সিদ্দিকীয়া মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৪ ঈসায়ী সনে সুজানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ঐ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ ঈসায়ী সনে এস.এস.সি বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করে, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে এইচ.এস.সি ( বিজ্ঞান ) বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭০ ঈসায়ী সনে এইচ.এস.সি পাশ করে পাবনা ইসলামিয়া কলেজ ( বর্তমানে শহীদ বুলবুল কলেজ ) বি.এ ভর্তি হন। এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রসংঘের প্যানেলে ভিপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ ঈসায়ী সনে রাজনৈতিক ও যুদ্ধকালিন পরিবেশ পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকার কারণে বি.এ পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি।
সাংগঠনিক জীবনঃ
১৯৬৮ ঈসায়ী সনে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হওয়ার পর নও মুসলিম শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রাথমিক সদস্য হিসাবে ভর্তি এবং পরে কর্মী হন। ১৯৬৯ ঈসায়ী সনে ইসলামী ছাত্র সংঘের পাবনা শহর শাখার সভাপতি ও ১৯৭০ ঈসায়ী সনে বৃহত্তর পাবনা জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ ঈসায়ী সনে উক্ত সংগঠন থেকে শারীরিক ও পারিবারিক কারণে মার্চ মাসে পদত্যাগ করেন। এখানে একটা কথা উল্লেখ্য যে, প্রথম দিকে ইসলামী ছাত্র সংঘের জনশক্তি খুবই কম ছিল। স্বাধীনতা পর তিনি গাইবান্ধা মহকুমা ( বর্তমান জেলা ) ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সনে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে একজন কর্মী হিসাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সার্বিক সহযোগিতা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর এ দায়িত্ব তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পালন করেছেন।
পেশাগত জীবনঃ
মাহতাব উদ্দিন ১৯৭৪ ঈসায়ী সনে পাবনা সদর উপজেলার দওগআছঈ ইউনিয়নের খয়ের সুতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৭৭ ঈসায়ী সনে চরতারাপুর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে এফ.পি.এ পদে চাকুরিতে যোগদেন। ১৯৭৮ ঈসায়ী সনে জনতা ব্যাংক পাবনা শাখায় এল.ডি.এ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮০ ঈসায়ী সনে জনতা ব্যাংক সি.বি.এ নির্বাচনে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পাবনা ব্যাংক কর্মচারী ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮১ ঈসায়ী সনের সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘট শুরু হলে তিনি গ্ৰেফতার হন এবং চাকুরিচ্যুত হন। প্রায় এক বছর কাল রাজবন্দি হিসেবে পাবনা ও ঢাকা জেলে আটক ছিলেন। ১৯৮২ ঈসায়ী সনে আগষ্টে পাবনা জেল মুক্তি পান।
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাবনা দারুল আমান একাডেমীতে ( বর্তমান জাগার হোসেন একাডেমী ) শিক্ষক হিসেবে যোগদান এবং সেখান থেকে ১৯৮৪ ঈসায়ী সনে পাবনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অফিস সহকারী বিধি মোতাবেক ২০১০ ঈসায়ী সনের ৩০ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন।
২০০৭ ঈসায়ী সন থেকে পাবনা থেকে প্রকাশিত “দৈনিক জীবন কথা” পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত থেকে ২০১১ ঈসায়ী সনের ডিসেম্বর হতে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পালন করেছেন।
সামাজিকতাঃ
সামাজিক ব্যাক্তি হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তিনি অনেক ব্যাক্তি চাকুরীর ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিলেন। কর্মজীবনে তিনি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সচিব দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মাওলানা আব্দুস সুবহান, ব্যারিষ্টার কোরবান আলী, ব্যাংক কর্মচারী নেতা জামাল উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহম্মদ, পাবনার বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল, মোঃ ইকবাল মেজর কে.এস মাহমুদ, জামায়াত নেতা মাষ্টার আব্দুস সাত্তার, মাওলানা ইদ্রিস আলী, ঈশ্বরদী মাওলানা নাছির উদ্দিনসহ বহু গণ্যমাণ্য ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেন।
পারিবারিক জীবনঃ
১৯৭৮ ঈসায়ী সনে তিনি সুজানগর গোপালপুরে তারাবাড়িয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খোন্দকার হাবিবুর রহমানের ছোট বোন মাহমুদা সেলিম চায়নাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি ৩ মেয়ে সন্তানের জনক। বর্তমানে তিনি পত্রিকার সঙ্গে জড়িত থেকে পাবনা মনসুরাবাদ নিজ বাসায় অবসর জীবন কাটিয়েছেন।










