০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে পাটখড়ির বিনিময়ে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন নারীরা

Nurunnobi
  • Update Time : ১১:১৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৩১ Time View

Oplus_16908288

ঈশ্বরদী সংবাদদাতাঃ
চলতি বর্ষায় নদ-নদী ও খাল-বিলে যথাসময়ে পানি আসায় ঈশ্বরদীতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ এখন তুঙ্গে। উপজেলাজুড়ে পাটচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময় বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় নারীরাও পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফতে মোহাম্মদপুর, মুলাডুলি, দাশুড়িয়া সহ বিভিন্ন গ্রামে নারীরা নিজেদের জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাটখড়ি ও কাজের মজুরি নিচ্ছেন। খাল-বিল ও রাস্তার পাশে নারীদের পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়। তারা পাটখড়ি আঁটি হিসেবে বিক্রি করছেন অথবা রান্নার জ্বালানি ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করছেন। নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরা দলবেঁধে খোলা জায়গায় বসে পাট ছাড়ানোর কাজ করছেন। অনেক জায়গায় পাটের আঁশ ছাড়াতে কৃষক আলাদা কোনো মজুরি দেন না, আবার কিছু কিছু জায়গায় মহিলারা মজুরি হিসাবে পাট ছাড়াই ।নারীরা পাট গাছ থেকে পাট আলাদা করে পাটখড়ি নিয়ে যান। বাড়িতে শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।

উপজেলার মধ্যে মুলাডুলি, ফতে মোহাম্মদপুর , দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়। গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুর্ভোগ হয়েছিল। তবে এবার পাট খেত ও সংলগ্ন খাল-বিলেই জাগ দিতে পারছেন কৃষকরা, ফলে পরিবহন খরচ কমছে। এবছর বিভিন্ন হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় মন প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম। তবে দাম কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন চাষীরা। অনেকে আবার অধিক লাভের আশায় পাট মজুত করে রাখছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর ৩৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল । এবার মেস্তা পাটসহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। ‘আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা পাট কেটে খেতের আশে পাশেই জাগ দিতে পারছেন, ফলে পরিবহন খরচ কমেছে।

Tag :

Share This Post

About Author Information

ঈশ্বরদীতে পাটখড়ির বিনিময়ে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন নারীরা

Update Time : ১১:১৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

ঈশ্বরদী সংবাদদাতাঃ
চলতি বর্ষায় নদ-নদী ও খাল-বিলে যথাসময়ে পানি আসায় ঈশ্বরদীতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ এখন তুঙ্গে। উপজেলাজুড়ে পাটচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময় বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় নারীরাও পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফতে মোহাম্মদপুর, মুলাডুলি, দাশুড়িয়া সহ বিভিন্ন গ্রামে নারীরা নিজেদের জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাটখড়ি ও কাজের মজুরি নিচ্ছেন। খাল-বিল ও রাস্তার পাশে নারীদের পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়। তারা পাটখড়ি আঁটি হিসেবে বিক্রি করছেন অথবা রান্নার জ্বালানি ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করছেন। নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরা দলবেঁধে খোলা জায়গায় বসে পাট ছাড়ানোর কাজ করছেন। অনেক জায়গায় পাটের আঁশ ছাড়াতে কৃষক আলাদা কোনো মজুরি দেন না, আবার কিছু কিছু জায়গায় মহিলারা মজুরি হিসাবে পাট ছাড়াই ।নারীরা পাট গাছ থেকে পাট আলাদা করে পাটখড়ি নিয়ে যান। বাড়িতে শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।

উপজেলার মধ্যে মুলাডুলি, ফতে মোহাম্মদপুর , দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়। গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুর্ভোগ হয়েছিল। তবে এবার পাট খেত ও সংলগ্ন খাল-বিলেই জাগ দিতে পারছেন কৃষকরা, ফলে পরিবহন খরচ কমছে। এবছর বিভিন্ন হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় মন প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম। তবে দাম কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন চাষীরা। অনেকে আবার অধিক লাভের আশায় পাট মজুত করে রাখছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর ৩৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল । এবার মেস্তা পাটসহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। ‘আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা পাট কেটে খেতের আশে পাশেই জাগ দিতে পারছেন, ফলে পরিবহন খরচ কমেছে।