০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় শ্রমিকদের মানববন্ধন: বকেয়া পরিশোধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

Nurunnobi
  • Update Time : ০৯:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

পাবনা সংবাদদাতা:
বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মেরিনার্স ফুড অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, মো. মিলন শেখ, হারুন খান, আম্বিয়া খাতুন, রাজিয়া খাতুন, রনি শেখসহ মালিকপক্ষের সদস্য মাসুদ রানা ও ফজলুল হক প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের একাংশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম আহমেদ অন্যান্য মালিকদের না জানিয়ে এবং শ্রমিকদের অবগত না করেই আমিনপুর থানার ওসির সহযোগিতায় গোপনে কারখানার যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সামগ্রী সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় শ্রমিকরা শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য পাওনা ও বকেয়া পরিশোধের জোর দাবি জানান। একইসাথে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক হারুনের মুক্তি এবং সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তারা।

রাষ্ট্র সংস্কার শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, “যেকোন প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর বা বন্ধের আগে শ্রমিকদের অন্তত তিন মাস আগে নোটিশ দিতে হয় এবং বকেয়া পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু শামীম আহমেদ সেই নিয়ম মানেননি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমিনপুর থানার ওসি প্রথমে শ্রমিকদের তিন দিনের মধ্যে বেতন প্রদানের আশ্বাস দিলেও পরে তা অস্বীকার করেন।

শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিন প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করে বলেন, শামীম আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিচার করতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকার ও শামীম আহমেদের উপর বর্তাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক পাঁচজন— ১. মো. শামীম আহমেদ, ২. মো. মাসুদ রানা, ৩. মো. ফজলুল করিম, ৪. মো. আব্দুল আওয়াল ও ৫. মো. ফাহাদুল আফসার চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, শামীম আহমেদ অন্য মালিকদের সম্পৃক্ত না করে এককভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, এমনকি তাদের স্বাক্ষর নকল করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে অন্য পরিচালকরা ইতিমধ্যে আরজেএসসি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করার নোটিশ প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে, কোম্পানি বন্ধের সিদ্ধান্তে অন্যান্য পরিচালকরা একমত হলেও শামীম আহমেদ নতুন করে একাধিক প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যার মধ্যে মেরিনার্স বেকার্স অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মূল কোম্পানির সম্পদ নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ১০ আগস্ট ২০২৫ রবিবার দুপুরে আমিনপুর থানার ওসির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শামীম আহমেদ বাহিনী নিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মালামাল ট্রাক ও ক্রেন ব্যবহার করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শ্রমিকরা বলেন, এ ঘটনায় তারা শুধু আর্থিক ক্ষতিগ্রস্তই নন, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Tag :

Share This Post

About Author Information

পাবনায় শ্রমিকদের মানববন্ধন: বকেয়া পরিশোধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

Update Time : ০৯:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

পাবনা সংবাদদাতা:
বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মেরিনার্স ফুড অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, মো. মিলন শেখ, হারুন খান, আম্বিয়া খাতুন, রাজিয়া খাতুন, রনি শেখসহ মালিকপক্ষের সদস্য মাসুদ রানা ও ফজলুল হক প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের একাংশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম আহমেদ অন্যান্য মালিকদের না জানিয়ে এবং শ্রমিকদের অবগত না করেই আমিনপুর থানার ওসির সহযোগিতায় গোপনে কারখানার যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সামগ্রী সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় শ্রমিকরা শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য পাওনা ও বকেয়া পরিশোধের জোর দাবি জানান। একইসাথে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক হারুনের মুক্তি এবং সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তারা।

রাষ্ট্র সংস্কার শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, “যেকোন প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর বা বন্ধের আগে শ্রমিকদের অন্তত তিন মাস আগে নোটিশ দিতে হয় এবং বকেয়া পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু শামীম আহমেদ সেই নিয়ম মানেননি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমিনপুর থানার ওসি প্রথমে শ্রমিকদের তিন দিনের মধ্যে বেতন প্রদানের আশ্বাস দিলেও পরে তা অস্বীকার করেন।

শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিন প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করে বলেন, শামীম আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিচার করতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকার ও শামীম আহমেদের উপর বর্তাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক পাঁচজন— ১. মো. শামীম আহমেদ, ২. মো. মাসুদ রানা, ৩. মো. ফজলুল করিম, ৪. মো. আব্দুল আওয়াল ও ৫. মো. ফাহাদুল আফসার চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, শামীম আহমেদ অন্য মালিকদের সম্পৃক্ত না করে এককভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, এমনকি তাদের স্বাক্ষর নকল করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে অন্য পরিচালকরা ইতিমধ্যে আরজেএসসি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করার নোটিশ প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে, কোম্পানি বন্ধের সিদ্ধান্তে অন্যান্য পরিচালকরা একমত হলেও শামীম আহমেদ নতুন করে একাধিক প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যার মধ্যে মেরিনার্স বেকার্স অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মূল কোম্পানির সম্পদ নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ১০ আগস্ট ২০২৫ রবিবার দুপুরে আমিনপুর থানার ওসির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শামীম আহমেদ বাহিনী নিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মালামাল ট্রাক ও ক্রেন ব্যবহার করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শ্রমিকরা বলেন, এ ঘটনায় তারা শুধু আর্থিক ক্ষতিগ্রস্তই নন, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।